আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে সফরের কূটনৈতিক সমন্বয় ও প্রস্তুতি তদারকি করতে গত ২২ অক্টোবর জাপানে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। ২৭ অক্টোবর জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর নির্ধারিত জাপান সফরে অনুপস্থিত থাকছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
- রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে সফরের কূটনৈতিক বিষয় ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে গত ২২ অক্টোবর টোকিওতে পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলামকে।
- আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে। সরকারপ্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে অংশ না নেওয়ার জন্য জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ পাওয়ার পর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী টোকিও ছেড়ে ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরে এসেছেন এবং গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি রাজধানীতে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিত থাকার ঘটনা কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত বিরল বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
১৫তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার কর্মকর্তা দাউদ আলী জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদানের আগে রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। চলতি বছরের আগামী ৭ ডিসেম্বর তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রদূতের আকস্মিক অনুপস্থিতির ফলে সৃষ্ট কূটনৈতিক শূন্যতা পূরণে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরের কূটনৈতিক বিষয় ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে সহায়তার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলামকে গত ২২ অক্টোবর বিশেষ দায়িত্বে টোকিও পাঠানো হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে জাপানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে সব প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও ডিজিটাল রূপান্তরের মতো ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, সচিব মো. নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তদারকিতে এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।