প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি বার্ষিক ২.২ শতাংশ হারে প্রসারিত হচ্ছে, যা জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে তাঁর আরোপিত শুল্ক এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মধ্যম আয়ের মানুষের গড় আয় বেড়ে ৮৭,৪৬০ ডলার হলেও ফেডারেল বাজেট ঘাটতি দুই ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছ িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি বর্তমানে বার্ষিক ২.২ শতাংশ হারে প্রসারিত হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩.২ শতাংশ, যা জি-সেভেন জোটের অন্য যেকোনো সদস্য দেশের তুলনায় বেশি।
- যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৩.৭ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে ঠেকেছে, যা ট্রাম্পের শুল্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাবের কারণে ঘটেছে।
- ২০২৫ সালে মার্কিন পরিবারগুলোর মধ্যম আয় ২.৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৮৭,৪৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, তবে কর ছাড় ও শুল্ক নীতির ফলে ধনী ১ শতাংশ মানুষ যেখানে গড়ে ১২,৫৬০ ডলার বেশি সুবিধা পাচ্ছেন, সেখানে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পাচ্ছে প্রায় ৭৫০ ডলার কম।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পারফরম্যান্স নিয়ে নানা ইতিবাচক দাবি তুলে ধরেছেন। সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, মার্কিন জিডিপি বর্তমানে বার্ষিক ২.২ শতাংশ হারে প্রসারিত হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩.২ শতাংশ। জি-সেভেনভুক্ত অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশের তুলনায় মার্কিন প্রবৃদ্ধির এই গতি বেশ শক্তিশালী ও সন্তোষজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির নেপথ্যেই নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ দানা বেঁধেছে। ট্রাম্পের ব্যাপকভিত্তিক আমদানি শুল্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মার্কিন মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানে ৩.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরে শিল্প ও কৃষিপণ্যে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি গরুর মাংস ও কফির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও ডিমের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
অর্থনৈতিক এই মিশ্র পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন পরিবারগুলোর গড় আয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৫ সালে মধ্যম আয়ের পরিমাণ ২.৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৮৭,৪৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে 'ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসি' (আইটিইপি)-এর তথ্যমতে, নীতিমালার অসম সুফলের কারণে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার যেখানে প্রায় ৭৫০ ডলার কম সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে প্রধানত কর ছাড়ের কল্যাণে ধনী ১ শতাংশ মানুষ গড়ে ১২,৫৬০ ডলার বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় কর্পোরেট বিনিয়োগের জোয়ারে মার্কিন অর্থনীতি গতি পেলেও নতুন কর্মসংস্থানের গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতি মাসে গড়ে ৩৪,০০০ নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে, যা জো বাইডেনের শেষ বছরে ছিল প্রতি মাসে ১২২,০০০। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কর ছাড়ের নীতির কারণে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতি ২ ট্রিলিয়ন ডলারে বা জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।