৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে ঋণ বিতরণে চরম ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পাঁচ মাসে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে উদ্যোক্তারা পেয়েছেন মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৩ শতাংশেরও কম। জটিল শর্ত ও মামলা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতার কারণে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই উদ্যোগ হোঁচট খাচ্ছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি তহবিলের মাধ্যমে মাত্র ১১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট প্যাকেজের এক-পঞ্চমাংশের কম।
- বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন উদ্যোক্তারা, যা বরাদ্দের ৩ শতাংশেরও নিচে।
- ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা থাকায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
করোনা মহামারী ও মন্দার ধাক্কা কাটিয়ে বন্ধ কলকারখানা চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এ খাতের বিশাল অঙ্কের অর্থ এখনো উদ্যোক্তাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে উদ্যোক্তারা পেয়েছেন মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের ১৫টি তহবিল থেকে মোট ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে এবং বাকি সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করার কথা। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল সরকার। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে। এছাড়া কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পের চলতি মূলধন হিসেবে প্রায় ৯০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সৃজনশীল খাতে ৫০০ কোটি, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ২৯৩ কোটি এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
ঋণ বিতরণে এমন ধীরগতির জন্য ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা পরস্পরকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্ধ কারখানা চালু করতে অর্থায়ন জরুরি হলেও ব্যাংকগুলো নানা জটিলতা তৈরি করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৯ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ নীতি সহায়তা পাওয়ার আগে সরকার ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে করা পুরোনো মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা তুলে নেওয়ার পর ঋণ পাওয়ার কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি না থাকায় উদ্যোক্তারা বড় ঝুঁকিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণের উচ্চ চাপের কারণে নতুন ঋণ বিতরণের আগে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, জামানত এবং কারখানা পুনরায় চালুর বাস্তব সম্ভাবনা কঠোরভাবে যাচাই করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রক্রিয়াটি আরও সহজ না করলে সরকারের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে। মামলা প্রত্যাহারের শর্ত শিথিল করে ব্যাংকের লিখিত নীতিগত সম্মতির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতিকেও শ্লথ করে দিতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।