৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে দেশের আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং শূন্য পদে সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে দ্রুত জনবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাতীয় সংসদ ভবনে ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ও বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
- মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদগুলোতে শুধু গতানুগতিক পদ পূরণ না করে স্ট্র্যাটেজিক লোড বা সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বিগত সভার কার্যবিবরণী কিছু সংশোধনী সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয় এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সভার মূল আকর্ষণ ছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবায়ন চিত্র। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের জন্য গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র কমিটির সদস্যদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিশেষ করে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে নির্মিত কর্ণফুলী টানেলের প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে এর বিপুল আর্থিক লোকসানের কারণগুলো নিয়ে বৈঠকে তুমুল আলোচনা হয়। টানেলটির এই আর্থিক ক্ষতির নেপথ্য কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। এ ছাড়াও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদ্বয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদগুলোতে শুধু গতানুগতিক পদ্ধতিতে লোকবল নিয়োগ না করে সুপরিকল্পিত কর্মভার বা স্ট্র্যাটেজিক লোড নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেগা প্রকল্পগুলোর এই ধরনের নিবিড় তদারকি ও লোকসানের কারণ অনুসন্ধান রাষ্ট্রের অপচয় রোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের মতো বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ত্রুটি বা পরবর্তী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত হলে তা ভবিষ্যতের যেকোনো মেগা প্রকল্প গ্রহণে নীতিনির্ধারকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সংস্কার ও শূন্য পদে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত সরকারি উন্নয়ন কাজের গতিশীলতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।