৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকার মধ্য দিয়ে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই কেন্দ্রে জমা পড়া ১৮,৮৯৫টি আপিলের মধ্যে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৯০টির নিষ্পত্তি হয়েছে, যার নিষ্পত্তির হার শূন্য দশমিক চার সাত ছয় শতাংশ। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুটি আসনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে ৬,৪৪৩টি আপিলের মধ্যে মাত্র ৮৬টি এবং রেজিনগরে ১২,৪৫২টি আপিলের মধ্যে মাত্র ৪টির নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা সমগ্র প্রক্রিয়ার মাত্র ০.৪৭৬% নিষ্পত্তির হার নির্দেশ করে।
- রেজিনগরে অযোগ্য ঘোষিত ভোটারদের ৯৫.৬% এবং নন্দীগ্রামে ৯৪.৫% মুসলিম ভোটার, যেখানে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে চরম ধীরগতির কারণে রেজিনগরে বাকি থাকা আপিল নিষ্পত্তি হতে প্রায় ১,৪৯০ বছর সময় লাগতে পারে।
- নন্দীগ্রাম আসনে গত মে মাসে বিজয়ী প্রার্থী ৯,৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও বর্তমান অযোগ্য ঘোষিত ৩,৪৬১ জন ভোটারের সংখ্যাটি ওই জয়ের ব্যবধানের প্রায় ৩৬ শতাংশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার মাধ্যমেই আগামী ৬ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি কেন্দ্র থেকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মোট ১৮,৮৯৫টি আপিল নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপোলেট ট্রাইব্যুনালের প্রকাশিত ৩ নম্বর তালিকা অনুযায়ী মাত্র ৯০টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার সামগ্রিক নিষ্পত্তির হার মাত্র শূন্য দশমিক চার সাত ছয় শতাংশ (০.৪৭৬%)। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ৮৬টি এবং রেজিনগরে মাত্র ৪টি আপিল নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এই চরম ধীরগতি ও অসংগতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে। এখানকার ট্রাইব্যুনালে ১২,৪৫৮টি আপিল জমা পড়লেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৪টির, যার হার মাত্র ০.০৩২ শতাংশ। গত ১৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর পর প্রতি ৪৪ দিনে একটি করে মামলার সিদ্ধান্ত আসায় বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই গতি বজায় থাকলে বাকি থাকা আপিলগুলো নিষ্পত্তি হতে প্রায় ১,৪৯০ বছর সময় লাগবে। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ৬,৪৪৩টি আপিলের বিপরীতে মাত্র ৮৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এই উপ-নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলা জরুরি ভিত্তিতে শুনতে অস্বীকার করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন যে এগুলো শুধুই উপ-নির্বাচন।
তালিকায় বাদ পড়া ও অযোগ্য ঘোষিত ভোটারদের বড় একটি অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রেজিনগরে অযোগ্য ঘোষিতদের ৩,৭৫২ জন অর্থাৎ ৯৫.৬ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ৩,২৭০ জন অর্থাৎ ৯৪.৫ শতাংশ ভোটার মুসলিম। নন্দীগ্রামে নিষ্পত্তি হওয়া ৮৬টি সিদ্ধান্তের সিংহভাগই ছিল পূর্বেই বিচারকদের বৈধ ঘোষণা করা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন খারিজ। এছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রশাসনিক জটিলতা ও ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের অভাবে নন্দীগ্রামের ১৭৭ জন বৈধ ভোটারও দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তায় ঝুলে ছিলেন।
এই ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা ও বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ার বিষয়টি নির্বাচনী ফলাফলের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে গত মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৯,৬৫৫ ভোট, অথচ বর্তমান অযোগ্য ঘোষিত ৩,৪৬১ জন ভোটারের সংখ্যাটি সেই ব্যবধানের প্রায় ৩৬ শতাংশ। ফলে সামান্য কিছু ভোটারের ভাগ্য পরিবর্তন বা বাদ পড়ার ঘটনা পুরো নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে সক্ষম, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার তালাশ বিডি-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।