৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় অপ্রচলিত বিদেশি ফল প্যাশন ফল বা আনারকলি চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ৩৩ শতক জমিতে চাষ করে কৃষক মো. সজল প্রথম বছরেই বিনিয়োগের তুলনায় তিনগুণ লাভ পেয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুর রহিমের মতে, একবার রোপণ করলে এই লতানো গাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের চাষি মো. সজল ৩৩ শতক জমিতে প্যাশন ফল চাষ করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে প্রথম বছরেই ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন।
- বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুর রহিমের উদ্যোগে দুই দশক আগে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে প্যাশন ফলের জাত দেশে আনা হয়।
- কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ফুল ফোটার ৬০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ উপযোগী হয় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর থেকে প্রতি গাছে ২০০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় সংযোজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে প্যাশন ফল, যা স্থানীয়ভাবে আনারকলি, ট্যাং ফল বা শরবতি ফল নামেও পরিচিত। দেশের পাহাড়ি অঞ্চল বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটির পাশাপাশি সমতলের চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, টাঙ্গাইল ও রংপুরেও এখন এই ফলের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার পাহাড়ি উপত্যকা থেকে উৎপত্তি হওয়া এই ফলটি বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ভারতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুর রহিমের উদ্যোগে প্রায় দুই দশক আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এর জাত সংগ্রহ করে দেশে চাষের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
লতানো প্রকৃতির এই গাছ একবার সঠিকভাবে রোপণ করা গেলে তা দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত ফুল ও ফল দিয়ে থাকে। রৌদ্রোজ্জ্বল ও উঁচু স্থানে এটি সবচেয়ে ভালো জন্মায় এবং গাছ লাগানোর আট থেকে দশ মাসের মধ্যে প্রথম ফুল ফোটে। সাধারণত ফুল ফোটার ৬০ থেকে ৭৫ দিন পর ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম বছর প্রতি গাছে ২০ থেকে ২৫টি ফল পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর থেকে তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ থেকে ২৫০টিতে উন্নীত হয়। এর খোসা সবুজ থেকে বেগুনি বা হলুদে পরিণত হওয়া, সামান্য কুঁচকে যাওয়া এবং তীব্র সুগন্ধ পরিপক্বতার প্রধান লক্ষণ।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সফল চাষি মো. সজল ৩৩ শতক জমিতে প্যাশন ফল চাষ করে এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার উৎপাদিত প্রতি পিস ফল পাইকাররা ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন এবং তিনি প্রতি দুই-তিন দিন পর প্রায় এক হাজার পিস ফল সংগ্রহ করছেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মতে, প্যাশন ফলের রস, বীজ ও খোসা—তিনটি অংশই শিল্পোৎপাদনে সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য। বিশেষ করে জুস, পাল্প এবং বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, কারণ এর স্বতন্ত্র অম্ল-মিষ্ট স্বাদ ও সুগন্ধ প্রক্রিয়াজাত পানীয় তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
তবে তাজা ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ এটি কামড় দিয়ে খাওয়ার প্রচলিত ফলের মতো নয় এবং এর সংরক্ষণকালও তুলনামূলক কম। তা সত্ত্বেও কৃষকদের মধ্যে এর লাভজনক ফলন ও অনলাইনে চারার ক্রমবর্ধমান চাহিদা নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কাঁচা ফলের বাজার নয়, বরং প্রক্রিয়াজাত পানীয় শিল্পের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলে প্যাশন ফল বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষিতে একটি স্থায়ী ও লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।