৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রিয়াদের কিং খালিদসহ বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব এগুলো প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। সস্তা ড্রোন ঠেকাতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে তৈরি হচ্ছে বিশাল অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি আরবের আকাশসীমায় হুথিরা নিয়মিতভাবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আভা, জিজান এবং নাজরানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সুইসাইড ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।
- মাত্র কয়েক হাজার ডলার খরচে তৈরি হুথিদের ড্রোন ভূপাতিত করতে সৌদি আরবকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তীব্র অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
- প্যাট্রিয়ট ও থাড সিস্টেম মূলত দূরপাল্লার বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি হওয়ায়, কম উচ্চতায় ওড়া সস্তা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যে আঘাত হানছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি জোটের নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও আভা, জিজান ও নাজরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরবের সামরিক ভাঁড়ারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ব্যয়বহুল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট (Patriot) এবং থাড (THAAD) মোতায়েন রয়েছে। তবে এই অত্যাধুনিক সিস্টেমগুলো মূলত দূরপাল্লার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। এর বিপরীতে হুথিরা ব্যবহার করছে কম উচ্চতায় ওড়া অত্যন্ত সস্তা ‘ওয়ান-ওয়ে সুইসাইড ড্রোন’ এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। একই সময়ে রাডারে আসা বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু একসঙ্গে ট্র্যাক করে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের সক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে আক্রমণকারীরা।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জও সৌদি আরবের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল সীমান্ত এলাকা এবং আরামকোর মতো সংবেদনশীল তেল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় হুথিদের পাহাড়ি ভূখণ্ড পেরিয়ে আসা নিচু ড্রোনগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। তাছাড়া, ইরানের প্রত্যক্ষ কারিগরি সহায়তা এবং উন্নত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা পাওয়ায় হুথিদের অস্ত্রগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁত ও আধুনিক হয়ে উঠেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই যুদ্ধ সৌদির জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুথিদের একটি ড্রোনের উৎপাদন বা সংগ্রহের খরচ মাত্র কয়েক হাজার ডলার হলেও, সেটিকে আকাশে ধ্বংস করতে সৌদি বাহিনীকে প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছুড়তে হয়। এই বিশাল আর্থিক অসমতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে সব আক্রমণ শতভাগ সফলভাবে প্রতিহত করা লজিস্টিক্যালি অত্যন্ত দুরূহ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে রিয়াদের জন্য।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার এখন টিভি-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।