সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মরমী সাধক রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষার্থে সমাধির পাশে না করে অন্যত্র আয়োজনের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দিয়েছেন স্থানীয়রা। ধর্মীয় অনুভূতির কথা উল্লেখ করে এই আবেদন করা হলেও, আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সেখানে বাউল গানের আসর ও নারী শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মরমি কবি ও বাউল সাধক রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান ও গানবাজনা সমাধিস্থলের পাশে না করে অন্যত্র আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।
- স্থানীয় একটি মহলের পক্ষ থেকে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষার অজুহাতে গানবাজনা বন্ধের দাবি জানানো হলেও, সকল বাধা ও আপত্তি উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই সেখানে বাউল গানের আসর বসে এবং নারী শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং ধর্মীয় অনুভূতির মধ্যকার এই টানাপোড়েন ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই সাধুসঙ্গ ও প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম দিকপাল এবং ধামাইল গানের প্রবর্তক বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান ও গানবাজনা সমাধিস্থলের পাশে না করার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কিছু মানুষের পক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়, যেখানে যুক্তি দেখানো হয় যে কবরস্থানের পাশে এ ধরনের উৎসব ও গানবাজনা আয়োজনের ফলে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অবমাননা ঘটছে এবং পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তবে এই আপত্তির মুখেও দমে যায়নি সাংস্কৃতিক কর্মী ও বাউল ভক্তরা। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবং স্থানীয় মহলের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই সুনামগঞ্জের কেশবপুরে রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থলে বসে বাউল গানের আসর। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল শিল্পীদের পাশাপাশি নারী শিল্পীরাও রাধারমণ দত্তের বিখ্যাত ধামাইল ও মরমী গান পরিবেশন করেন।
আয়োজক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাধারমণ দত্ত বাংলার লোক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাঁর সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখতেই প্রতি বছর এই প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। সমাধিস্থলে গানবাজনা করা বা ভক্তদের জমায়েত হওয়া কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং এটি বহু দশক ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্য। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোকসংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে স্থানীয় ধর্মীয় মূল্যবোধের এই দ্বন্দ্বের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভবিষ্যতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোর আয়োজন আরও সুচারুভাবে এবং উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সম্পন্ন করা গেলে সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।