৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে দেশটিকে ‘সেইফ কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার এ কথা জানান। বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বৈধ পথে পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর অভিবাসন সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য ‘সেইফ কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচনার কথা জানান।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠকে জানান, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ইতোমধ্যে ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে।
- বর্তমানে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে ইইউর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে দেশটিকে ‘সেইফ কান্ট্রি’ বা নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন ইইউর অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, অভিবাসন খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ইতোমধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করেছে। এছাড়া মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে ইইউ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।
ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের এসব সংস্কারমূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বর্তমান বাস্তবতায় দেশটিকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে মূল্যায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বৈধভাবে বসবাস ও কর্মসংস্থান করছেন। অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ও বৈধ কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইইউর এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে শ্রমবাজারের অংশীদারত্বকে আরও বেশি শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Channel i Online-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।