আজ রবিবার সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ১৩ বছর ৮ মাসের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানান, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, আলোচিত সময়ে ৪,২৮০টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৪৬ জন নিহত এবং ৪৬,৩৫১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। দলগুলোতে পরিবারতান্ত্রিক প্রভাবও প্রকট।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, ৩৭টি নিবন্ধিত ও ৫টি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘ ১৩ বছর ৮ মাস ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।
- গবেষণায় উঠে এসেছে যে, উল্লিখিত সময়ে দেশে মোট ৪,২৮০টি রাজনৈতিক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, যাতে ৭৪৬ জন নিহত এবং ৪৬,৩৫১ জন রাজনৈতিক কর্মী আহত হয়েছেন।
- রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং দলীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে অনুষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট ১২ দফা সুপারিশমালা পেশ করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গবেষণার মূল তথ্যে প্রকাশ পায় যে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি ও সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিগত ১৩ বছর ৮ মাসেরও বেশি সময়ে সারা দেশে মোট ৪,২৮০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব সংঘর্ষ ও সহিংসতার জেরে দলগুলোর সর্বমোট ৪৬ হাজার ৩৫১ জন নেতাকর্মী ও কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৭৪৬ জন ব্যক্তি।
টিআইবির গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলেই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের মারাত্মক সংকট রয়েছে। দলগুলোর ভেতরে একক আধিপত্যের পাশাপাশি পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব বা বংশতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি, দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির সঠিক প্রতিফলন দেখা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১২ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পেশ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের গঠনতন্ত্র ও আইন মেনে চলার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা জরুরি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।