যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৭ থেকে ১৫ জুন তিন সদস্যের ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা ২১ হাজারেরও বেশি মামলা প্রত্যাহার করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন তিন সদস্যের ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে এই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন তৈরি করে।
- প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও মিথ্যা ২১ হাজারেরও বেশি মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরোনো মামলাগুলোর পর্যালোচনা চলছে।
- বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলগুলো বর্তমানে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনা করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সোমবার প্রকাশিত দেশটির কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) এক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে এই মূল্যায়ন তৈরি করে।
প্রতিবেদনে বিশদভাবে বলা হয়েছে যে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এখন নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ, প্রচার চালানো এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে। দেশে এখনও কিছু বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটলেও তা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রিক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় বন্দি থাকা অধিকাংশ নেতাকর্মী ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন এবং পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২১ হাজারেরও বেশি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং বিগত আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দলটি এখনও নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটির বিরুদ্ধে প্রবল জনরোষ রয়েছে। তবে দুর্নীতি বা দমন-পীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না এমন তৃণমূলের সমর্থকেরা নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারলেও প্রকাশ্যে সমর্থন জানালে সামাজিক বৈরিতা ও হয়রানির ঝুঁকিতে পড়ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও সাধারণ আদালতে বিগত সরকারের মন্ত্রী-নেতা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এই প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে আগের তুলনায় অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও কম সহিংস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষার পথকে আরও সুগম করবে। তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আইনের শাসন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।