ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ আন্দোলনের কর্মসূচি একদিন পিছিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ঘোষণার পর রামলীলা ময়দানে সমাবেশের অনুমতি মিললেও মিছিলে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। এর ফলে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও গণ-ইমপিচমেন্টের দাবিতে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি এক দিন পেছানো হয়েছে।
- কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের অনুমতি মিললেও পুলিশ এখনও মিছিলে অনুমতি দেয়নি।
- দিল্লির ব্যবসায়ীদের একটি সমাবেশে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন যে, জ্ঞানেশ কুমারকে সরালে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিক্ষোভ বন্ধ হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পূর্বঘোষিত ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ বা গণ-অভিসংশন আন্দোলন কৌশলগত কারণে একদিন পেছানো হয়েছে। কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা রাহুল গান্ধী এই কর্মসূচি পেছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তবে আন্দোলন পেছালেও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের হুংকার এবং রাজপথের লড়াইয়ের প্রস্তুতি থামেনি।
দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে এই মহাসমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রশাসনের অনুমতি মিলেছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে এখনও মিছিলের অনুমতি দিতে নারাজ দিল্লি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে জোটের শরিক দলগুলো বিকল্প কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দিল্লির স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরাতে হবে। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি এই পদক্ষেপ নেয়, তবে ব্যবসায়ীদের চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষ মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রশমিত হবে। বিরোধীদের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন ও নীতিগত নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও বিরোধীদের এই সংঘাত জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ থেকে বিরোধী দলগুলো নতুন কোনো বড় কর্মসূচির ডাক দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলের।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।