রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক দায়ের কারণে দেশের মাথাপিছু ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকায়। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিগত সরকারের আমলের প্রায় ১,৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল—এই ৬ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
- অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের চাপে বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকায়।
- বিগত ১৫ বছরের পুঞ্জীভূত আর্থিক দায় কমাতে এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনে আগের সরকারের প্রায় ১,৩০০টি চলমান প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) অনাদায়ী ঋণের বড় অংশই এখন মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের অভাব এবং ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ ছাড় করায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে।
আর্থিক খাতের এই সংকটের পাশাপাশি দেশে সরকারি ঋণের বোঝাও নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মোট দায় বিবেচনায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত দেড় দশকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বৈদেশিক ঋণের দায় দ্রুত স্ফীত হয়েছে, যা এখন রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর দ্বিমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিশাল দায়ভার সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচন ও সংস্কারের সমন্বিত পথ বেছে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পূর্ববর্তী প্রশাসনের নেওয়া প্রায় ১,৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প নিবিড়ভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো কাটছাঁট করে রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধ এবং অর্থ অপচয়কারী চক্রকে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের দায়মুক্তি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বড় বড় ঋণখেলাপিরা শাস্তির আওতার বাইরে থেকে গেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ট্রাইব্যুনাল গঠন, ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আর্থিক খাত পুনরুজ্জীবনের প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বাংলা ট্রিবিউন-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।