৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর আরোপিত একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে জারিকৃত এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের পাস করা এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও কিয়েভ সম্পর্কে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক এবং রুশ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা থাকলেও ট্রাম্প তা কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে স্থগিত করেছেন।
- মার্কিন ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা ডন বেয়ারসহ অনেকেই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, হোয়াইট হাউস ক্রেমলিনের কাছে নতি স্বীকার করছে এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
- নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন, যার ফলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরোপিত একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইনে স্বাক্ষর করার মাত্র কয়েক মাস পর, শুক্রবার রাতে এক নির্বাহী আদেশে এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। প্রশাসনের দাবি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং কৌশলগত প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই আকস্মিক পদক্ষেপে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার রাজনৈতিক মিত্রতায় নতুন করে ফাটল ধরেছে।
মূলত রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের আমদানিপণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ, রুশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি মস্কোর ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরকে চাপে ফেলার লক্ষ্যেই ওই নিষেধাজ্ঞা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি বদলের ফলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ শিথিল হয়ে পড়ল। এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল আমদানির একটি বিতর্কিত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা কমিয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভার্জিনিয়ার কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ারসহ বেশ কয়েকজন ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করছে এবং ইউক্রেন ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতি মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন থেকে সরে আসছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে ইউক্রেনের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি বিপদজনক হয়ে উঠেছে, কারণ একদিকে ওয়াশিংটনের সমর্থন কমছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের ওপর রুশ সামরিক আগ্রাসন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক এমন টানাপোড়েনের মাঝেই ইউক্রেনজুড়ে নয়টি অঞ্চলে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। খারকিভ, দোনেৎস্ক, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, ভোলিন ও রিভনে অঞ্চলে চালানো এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি দুটি শপিং সেন্টারসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার ফলে দশ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অবমূল্যায়ন এবং অন্যদিকে রাশিয়ার লাগাতার সামরিক হামলায় ইউক্রেনের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।