৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে এবং অশুল্ক বাধা দূর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় অংশ নেয়। বৈঠকে পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং এলডিসি উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা বহাল রাখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী (৮-৯ অক্টোবর) ১৬তম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় অংশ নেয়।
- বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও সাফটা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- বৈঠকে বিআইএস (BIS) সনদ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি ট্রাক চলাচলের সুযোগ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে 'সিইওস ফোরাম' চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের দুই দিনব্যাপী ১৬তম সভায় এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
বৈঠকে প্রধানত বাংলাদেশি পাটপণ্য এবং পেট ফিল্মের ওপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নীত হওয়ার পরও সাফটা (SAFTA) চুক্তির আওতায় বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব রাখে। এছাড়া পণ্যের মান নির্ধারণকারী সংস্থা ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (BIS) সনদ পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে ভারতের কাস্টমস স্টেশনগুলোতে পার্কিং ইয়ার্ড, পর্যাপ্ত গুদাম এবং আধুনিক কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে সরাসরি বাংলাদেশি ট্রাক চলাচলের সুযোগ প্রদান এবং দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত 'সিইওস ফোরাম'কে আরও কার্যকর করার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ভারতও বাংলাদেশে তুলার সুতা রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ অপসারণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করার প্রস্তাব পেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত ও কাস্টমস কার্যক্রমের বহুমুখী জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ কমানো গেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সিদ্ধান্তসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পারস্পরিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।