আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাতের চা-পিঠা বা জুসের দোকানের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA)। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনলাইনে আবেদন করে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এই নিবন্ধন সংগ্রহ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (BFSA) নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি, চা ও মুড়ির দোকানসহ সব ধরণের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ খাদ্য ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে।
- ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা BFSA-এর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ট্রেড লাইসেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
- নিবন্ধনহীন ব্যবসা পরিচালনার দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর আওতায় জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা তদারকিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের প্রতিটি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী খাবারের দোকান পর্যন্ত সব ধরণের খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি, চা কিংবা জুস বিক্রেতাদেরও সরকারি ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। মূলত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর বিধান অনুযায়ী এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের জন্য নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা এবং বড় রেস্তোরাঁ বা ক্যাটারিং সার্ভিসের জন্য এই ফি প্রতিষ্ঠানের আকারভেদে ভিন্ন হবে। ব্যবসায়ীদের BFSA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যের মান তদারকি করা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে দ্রুত শনাক্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অনেক বিক্রেতা মনে করছেন, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করা জটিল হতে পারে। তবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে কঠোর তদারকি শুরু হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের স্ট্রিট ফুড সেক্টরে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং পর্যটন শিল্পেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি যেন হয়রানিভুক্ত ও সহজতর হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ১ নভেম্বরের পর থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান খাদ্য বিক্রয় করলে তাদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা কার্যকর করা হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।