দীর্ঘ ছয় দশক পর স্বামী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় ও প্রেম নিয়ে মুখ খুললেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। আসন্ন স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’ প্রকাশের প্রাক্কালে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি জানান, কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় একটি গ্রিক রেস্তরাঁয় পারস্পরিক পরিচিতজনের মাধ্যমে রাজীবের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিল এবং প্রথম দেখাতেই রাজীবের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আসন্ন আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’ প্রকাশের আগে সোনিয়া গান্ধী ইনস্টাগ্রাম ও এক্স হ্যান্ডেলে অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের প্রেমপর্ব নিয়ে প্রথমবার ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।
- লন্ডনে পড়াশোনাকালে পছন্দের খাবারের খোঁজে যাওয়া কেমব্রিজের একটি গ্রিক রেস্তরাঁয় ষাট বছর আগে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয় বলে জানিয়েছেন আশি ছুঁইছুঁই এই কংগ্রেস নেত্রী।
- প্রথম দেখাতেই রাজীব গান্ধীকে অত্যন্ত ভদ্র, স্নিগ্ধ ও সুন্দর দেখতে লেগেছিল এবং তাঁর সঙ্গেই আজীবন কাটানোর ইচ্ছা জেগেছিল বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন সোনিয়া।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলা নানা গুঞ্জন ও রাজনৈতিক সমালোচনার জবাব দিয়ে নিজের ছাত্রজীবন ও রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রেমপর্ব নিয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। এতদিন সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলেও নিজের বহুল প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’ প্রকাশের আগে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও এক্স হ্যান্ডেলে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা প্রথম ভিডিও বার্তার মাধ্যমেই তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম রোমাঞ্চকর অধ্যায় সবার সামনে তুলে ধরেছেন।
ভিডিওতে সোনিয়া গান্ধী জানান, ষাটের দশকে যখন তাঁরা দুজনেই ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করছিলেন, তখন সেদেশে ভালো ইটালিয়ান খাবার পাওয়া কঠিন ছিল। নিজের পছন্দমতো খাবারের সন্ধান করতে গিয়ে তিনি কেমব্রিজের একটি গ্রিক রেস্তরাঁর খোঁজ পান, যেখানে বহু ভারতীয় শিক্ষার্থীও যাতায়াত করতেন। সেই রেস্তরাঁয় দুজনের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমেই প্রথম পরিচয় হয় তরুণ রাজীব গান্ধী ও ইটালীয় তরুণী সোনিয়ার। অতীতে সোনিয়ার বার ডান্সার হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা অপপ্রচার চালানো হলেও, মূলত লন্ডনে ছাত্রাবস্থায় ওই রেস্তরাঁয় তাঁদের পরিচয় হওয়ার বিষয়টি এই বিবরণে পরিষ্কার হলো।
নিজের প্রেমপর্বের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আশি ছুঁইছুঁই এই কংগ্রেস নেত্রী। তিনি জানান, প্রথম দেখাতেই রাজীব গান্ধীর প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। রাজীবের অত্যন্ত ভদ্র আচরণ, স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্ব এবং আকর্ষণীয় রূপ তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। সোনিয়ার কথায়, রাজীবকে দেখার পর তাঁর মনে হয়েছিল এই মানুষটির সঙ্গেই তিনি বাকি জীবন কাটাতে চান। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে রাজীব গান্ধীর মনেও তাঁর প্রতি ঠিক একই রকম গভীর অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কেমব্রিজের সেই ছাত্রজীবনের বন্ধুত্বকে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করেছিল।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বহু ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে আসা সোনিয়া গান্ধীর এই আত্মজীবনী প্রকাশ এবং প্রথম পরিচয়ের নেপথ্য কাহিনি প্রকাশ পাওয়ার পর রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্তরালে থাকা এক সাধারণ তরুণীর রাজপরিবারের উত্তরসূরির সঙ্গে প্রেমের এই গল্প কেবল তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতির রোমন্থনই নয়, বরং আধুনিক ভারতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মানবিক দলিল হিসেবেও পাঠকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।