৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রংপুরের কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের 'গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি' মর্যাদাপূর্ণ রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে। ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের সাততলা এই কারখানাটির নকশা করেছে বাংলাদেশি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। প্রায় ৫ হাজার নারী কর্মীর সুস্থতা, কর্মপরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি বসতবাড়ির উঠান-পুকুরের ধারণা মাথায় রেখে তৈরি কারখানাটিকে ‘নীরব নম्रতার নিদর্শন’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন বিচারকেরা।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রংপুরের কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি মর্যাদাপূর্ণ রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।
- বাংলাদেশি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘নকশাবিদ আর্কিটেক্টস’-এর প্রধান স্থপতি বায়েজিদ এম খন্দকার ঐতিহ্যবাহী বাঙালি বসতবাড়ির আদলে কারখানাটির নকশা করেন, যেখানে প্রায় ৫ হাজার কর্মী কাজ করেন।
- কারখানাটিতে অভিন্ন প্রবেশপথ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র, ছায়াঘেরা বারান্দা, পুকুরপাড় ও সবুজে ঘেরা পরিবেশ রেখে শ্রমিকদের কল্যাণ ও সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’ স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ জিতেছে। বৃহস্পতিবার রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টসের (রিবা) পক্ষ থেকে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের সাততলা এই কারখানাটির নকশা করেছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘নকশাবিদ আর্কিটেক্টস’। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বসতবাড়ির উঠান, পুকুর এবং গ্রামীণ প্রকৃতির আদলে এর নকশা তৈরি করা হয়েছে।
দুই বছর পরপর প্রদান করা এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে কেবল দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নয়, বরং মানুষের জীবন ও সমাজের সঙ্গে স্থাপত্যের যোগসূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৫ হাজার কর্মী কাজ করেন, যার বেশিরভাগই নারী। কারখানার নকশায় শ্রমিকদের সুস্থতা ও মানসিক শান্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র, ছায়াঘেরা বারান্দা, হাঁটার পথ এবং নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে একটি বড় ভাস্কর্য।
রিবা পুরস্কারের বিচারক প্যানেলের প্রধান বিজয় জৈন এই কারখানাটির অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করেছেন। প্রচলিত কারখানার মতো এখানে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ না রেখে একটি অভিন্ন প্রবেশপথ রাখা হয়েছে, যা সমতার চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রিবার বিচারকেরা ভবনটিকে ‘নীরব নম্রতার এক নিদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে বিচারক দল সরাসরি কারখানাটি পরিদর্শন করে এর নান্দনিকতা ও কার্যকারিতা যাচাই করেন।
নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি বায়েজিদ এম খন্দকার জানান, শিল্পকারখানা যেন মানুষের শক্তি নিঃশেষ করে দেওয়ার কোনো যন্ত্র না হয়ে বরং তাদের শক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জীবন্ত স্থান হয়, সেই ভাবনা থেকেই এই নকশা করা হয়েছে। এই অর্জন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের কর্মপরিবেশের উন্নয়নে একটি উজ্জ্বল বিকল্প মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।