৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এই অনুমতি দেয়। আগামী নভেম্বর মাসের শেষের দিকে কেন্দ্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি বা নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া অর্জন করেছে।
- বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার এই পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি বড় অগ্রগতি।
- রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন যে, আগামী নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি তথা নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া অর্জন করেছে। রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি এই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর এই অনুমোদন দেয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় একটি মাইলফলক।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর আগে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের একটি স্বয়ংক্রিয় চাপ কমানোর ভালভে জটিলতা দেখা দেওয়ায় অনুমোদন কিছুকাল আটকে ছিল। পরবর্তীতে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে জটিলতা সমাধান করা হয় এবং একাধিক সফল পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ সুগম হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো সম্পূর্ণ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এই অর্জনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হওয়ার বা গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করল। পরবর্তী পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই এবং ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। সার্বিকভাবে এই অর্জন দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।