‘সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চাই’, ভারত-চিন-আমেরিকার দিকে আঙুল নেপালের! দেহ উদ্ধার বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪২১৬
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১,১০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই বিপর্যয়ের জন্য বিশ্বের প্রধান তিন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ—চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাঠমান্ডু। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, তারা এটিকে 'সাহায্য' নয় বরং 'জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আইনি অধিকার' হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি জাতিসংঘেও উত্থাপন করবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আগস্টের শেষদিকে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ১,১০০ ছাড়িয়েছে।
- নেপাল এই বিপর্যয়ের জন্য শীর্ষ কার্বন দূষণকারী তিন দেশ—চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, যা কোনো দয়া নয় বরং নৈতিক ও আইনি অধিকার।
- নেপাল ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিলের কাছে জরুরি আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছে এবং পুনর্গঠনের জন্য তাদের প্রায় ৪০০-৫০০ কোটি (৪-৫ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোটেকোশি নদীর অববাহিকায় এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (হড়পাবান) বা 'হিমালয়ান সুনামি' আঘাত হানে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা ১,১০০ ছাড়িয়ে গেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে নেপাল সরকার এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কাঠমান্ডু আর শুধুমাত্র বিপর্যয়-পরবর্তী 'ত্রাণ বা সাহায্য' চাইছে না, বরং তারা 'জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ' দাবি করছে। তিনি যুক্তি দেখান যে, নেপাল বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে খুব সামান্যই ভূমিকা রাখে, কিন্তু শীর্ষ কার্বন দূষণকারী দেশগুলোর (চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত) কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হচ্ছে নেপালকে। দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি এই হড়পাবান তারই প্রত্যক্ষ ফল।
নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, এই বন্যায় যে বিপুল ধ্বংসলীলা চলেছে তা পুনর্গঠন করতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হতে পারে, যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশ। ইতিমধ্যেই নেপাল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' (Loss and Damage) তহবিলের কাছে জরুরি অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ফোরামে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে কাঠমান্ডু। আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র 'বালেন' শাহ স্বয়ং উপস্থিত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই বিপর্যয় এবং ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপন করতে পারেন। নেপালের বার্তা স্পষ্ট—যারা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে কম দায়ী, তারা বার বার নিজেদের পকেট থেকে উদ্ধার ও পুনর্গঠনের খরচ বহন করতে পারে না। বড় কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকেই এর দায় নিতে হবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও তথ্যের অধিকার Anandabazar Patrika-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত উপলব্ধি ও সহজ পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি সংকলন ও প্রস্তুত করেছে।
মোবাইল অ্যাপে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে খবর পড়ুন
স্মার্ট অডিও ন্যারেটর, ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং, অফলাইন মোড এবং দ্রুততম ব্রেকিং নিউজ নোটিফিকেশন পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের ফ্রি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।