সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আটটি দানবাক্স ও তিনটি ডেগ দীর্ঘ দুই মাস সাত দিন পর খুলে পুনরায় গণনা করা হচ্ছে। গণনার পঞ্চম পর্যায়ে এ পর্যন্ত নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যক্তির লেখা আবেগঘন চিঠিও পাওয়া গেছে, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলো দীর্ঘ দুই মাস সাত দিন বন্ধ থাকার পর এবার খোলা হয়েছে।
- গণনার পঞ্চম পর্যায়ে এসে এখন পর্যন্ত নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
- টাকা গণনার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে বিদেশি মুদ্রা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি বিশেষ চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আটটি দানবাক্স ও তিনটি বড় ডেগ দীর্ঘ সময় পর খোলা হয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাজার মুতাওয়াল্লি কমিটি এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই দানবাক্সগুলোর তালা খোলা হয়। গত দুই মাস সাত দিন বন্ধ থাকার পর এগুলো খোলার ফলে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র জমা হয়েছে।
পঞ্চম দফার গণকাজ চলাকালে এখন পর্যন্ত নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সন্ধান মিলেছে। এর আগে প্রতিবার মাজারের দানবাক্স খোলার পর কোটি টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি অর্থ পাওয়া যেত। নিয়ম অনুযায়ী, মাজারের এই তহবিলের অর্থ বিভিন্ন মাদরাসা, এতিমখানা এবং মাজারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে। নোট গণনার এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যাংকগুলোর অর্ধশতাধিক কর্মী ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
টাকা এবং মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে বেশ কিছু চিরকুট ও চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা ও আবেগময় আকুতি সম্বলিত চিঠিও পাওয়া গেছে এসব দানবাক্সে।
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ গণনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মোট টাকার সঠিক পরিমাণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাজার জিয়ারতে আসা ভক্তরা প্রতিনিয়ত এই দানবাক্সগুলোতে নগদ অর্থ ও মানত প্রদান করে থাকেন। শাহজালাল মাজারের দানবাক্স থেকে এ ধরনের চিঠি ও রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে বরাবরই সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর কৌতূহলের সৃষ্টি করে আসছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।