রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়ে সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছে। পিএইচপি (PHP) সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা এই হামলা চালায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটও আড়াই দিন বন্ধ থাকার পর এটি দ্বিতীয় বড় ঘটনা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এই কারিগরি ত্রুটি শনাক্তের বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাতে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পিএইচপি-র (PHP) নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
- এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট টানা আড়াই দিন বা প্রায় ৬০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি অবকাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে।
- প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হ্যাকাররা বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিএইচপি কোডের ত্রুটি খুঁজে বের করছে, যা দ্রুত নিরসনে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের তথ্য চুরির ঝুঁকি রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ওয়েবসাইটটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে, যার ফলে গ্রাহক ও ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় সাইটে প্রবেশ করতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আর্থিক খাতে সাইবার ঝুঁকির যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই হামলা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের একটি বিশেষ নিরাপত্তা ছিদ্র বা 'ভালনারেবিলিটি' ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই একই ধরনের ত্রুটির কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটও টানা আড়াই দিন বা প্রায় ৬০ ঘণ্টা অচল ছিল। পিএইচপি-র এই ত্রুটিটি বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধীদের কাছে নতুন অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা বাংলাদেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
চ্যানেল আই অনলাইন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হ্যাকাররা মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে কোডিংয়ের ত্রুটিগুলো দ্রুত শনাক্ত করছে। জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগ জানিয়েছে, তারা ওয়েবসাইটটি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এবং গ্রাহকদের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে বারবার এ ধরনের হামলা দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ওয়েবসাইট পুনরুদ্ধার করলেই হবে না, বরং নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট এবং ফায়ারওয়াল আপডেট করা জরুরি। বিশেষ করে পিএইচপি-র মতো ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্যাচ আপডেট না রাখলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বা তথ্য চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।