রাঙামাটির সাজেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চলমান অবরোধের তৃতীয় দিনে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে স্থানীয় গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সেনা-পুলিশ ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী অপসারণ, লুটপাটের ক্ষতিপূরণ এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়। অপরদিকে চলমান উত্তেজনায় শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২২ আগস্ট সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত ৩০ জনের নাম এবং অজ্ঞাতনামা ১০০০ জনের মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
- উজো বাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
- জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে অপসারণ এবং তাদের চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করার কঠোর দাবি উত্থাপন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ও পাহাড়ি জনপদ সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের তৃতীয় দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথভাবে এক সংবাদ বিবৃতিতে প্রশাসনের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন। মূলত গত ২২ আগস্টের সংঘর্ষ ও এর পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ দানা বেঁধে ওঠে।
নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট অবরোধকারীদের ওপর বিনা উস্কানিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের নামে সাজানো ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০০ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে তারা জানান, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে গ্রেফতার করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
পরিস্থিতির বর্ণনায় বিবৃতিতে বলা হয়, দিন-রাত উজোবাজার এলাকা ঘেরাও করে রাখার ফলে বাজারে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে এবং লুট করা মালামাল গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অত্যাচারের মুখে বাধ্য হয়ে উজোবাজার এলাকা থেকে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ফেলে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। আহত নারী-পুরুষদের সুচিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
এই পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে পাহাড়ি অঞ্চলে অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাজেক এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।