শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত এই জমি সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিবাদে তারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ওই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে গণপূর্তের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন এবং কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগারগাঁওয়ে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ একর গবেষণার মাঠ সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছেন।
- বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রোকেয়া সরণি অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এই মাঠটি কৃষি গবেষণার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি হাতছাড়া হলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার ব্যাপক ক্ষতি হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণার মাঠ সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকাটি। সহস্রাধিক শিক্ষার্থী রোকেয়া সরণি অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই গবেষণার মাঠটি কেড়ে নিয়ে সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত কৃষি শিক্ষার পরিপন্থী।
ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত এই জমিটি মূলত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য নির্ধারিত ছিল। শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। গণপূর্ত অধিদপ্তর এই জমিটি সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আজ তারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জমি দখল করে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মাঠটি হারিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ের ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এই ঘটনাটি বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সরকারের সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, অন্যদিকে কৃষি শিক্ষার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের মাঠ রক্ষার দাবি—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে আগারগাঁও এলাকা এখন উত্তপ্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কোনো কার্যকর সমাধান বা বিকল্প জায়গা নির্বাচন না করে, তবে এই আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।