লাইভ
তাৎক্ষণিক ৬০ শব্দের সংবাদ ও ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং
প্লে-স্টোর অ্যাপ

সদরপুরে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ

প্রতিবেদক / উৎস: আমার দেশ | তারিখ: 05 অক্টোবর 2026, 03:13 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 49 বার পঠিত
সদরপুরে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ

"ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শরৎকালের পানি কমার সময়েও এমন ভাঙনে ২০০ বছরের প্রাচীন পিঁয়াজখালীর হাট, আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বহু স্থাপনা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ১৭ কিলোমিটার নদীশাসন কাজ স্থগিত থাকায় নদীর স্রোত ঘুরে এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে।"

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট, মুন্সীরচর, বাবুরালি মোল্যার কান্দি ও শিকদারকান্দিসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাইলের পর মাইল নদীর পাড় একযোগে ভেঙে পড়ছে।
  • নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে ২০০ বছরের প্রাচীন পিঁয়াজখালীর হাট, চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবন, জনসংঘ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চরনাছিরপুর উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
  • সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন জানিয়েছেন, পদ্মা নদী শাসনের বিষয়টি প্রকল্প আকারে একনেকে (ECNEC) পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছেন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শরৎকালের সূচনা ও নদ-নদীর পানি কমার প্রবণতা সত্ত্বেও ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রমত্ত পদ্মার রুদ্ররূপ অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার ভয়াল ভাঙনের মুখে পড়ে উপজেলার ঢেউখালী ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শত শত বিঘা কৃষিজমি এবং বসতভিটা চোখের পলকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষা পরবর্তী সময়ে পদ্মার এমন তীব্র স্রোত ও ভাঙন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়নি। ভাঙনের কবলে পড়ে দিশাহারা কৃষকেরা তাদের আধাপাকা ও কাঁচা ধান জমিতেই কেটে গোখাদ্য হিসেবে সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাগড়া ঘাট থেকে দিয়ারা ও চরনাছিরপুর ঝাউকান্দা পর্যন্ত পদ্মা নদী শাসনের মাত্র ১৭ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা স্থগিত রাখা হয়। এর ফলে নদীর মূল স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে সরাসরি সদরপুর অংশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি জানান, চোখের পলকে মাত্র ২০ মিনিটে কয়েক শ ফুট এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার নজির দেখা গেছে। উজানে নদীশাসনের কাজ বন্ধ থাকা এবং সেখানে বালুর স্তূপ জমে স্রোতের গতি পরিবর্তনের ফলে ভাঙনের মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার ঝুকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পিঁয়াজখালীর হাট, চরনাছিরপুর ইউনিয়নের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবন, জনসংঘ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চরনাছিরপুর উচ্চবিদ্যালয় এবং একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইয়ুব আলী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, নদী যেভাবে দ্রুত এগিয়ে আসছে, তাতে অচিরেই গোটা জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এখানকার অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং স্থানীয় জনপদ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন নিশ্চিত করেছেন যে, পদ্মার ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকারের উচ্চমহলে অবগত রয়েছে। নদী স্থায়ীভাবে শাসনের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে একনেকে (ECNEC) পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্বত্বাধিকার ও উৎস বিবরণী

এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার আমার দেশ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সম্পূর্ণ খবর, লাইভ টিভি ও ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিন মাত্র ২ মিনিটে দেশের সব খবর জানুন ৬০ শব্দের স্মার্ট কার্ডে। বিজ্ঞাপনমুক্ত ক্লিন রিডার, ভয়েস ন্যারেটর এবং ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন লাইভ টিভি চ্যানেল স্ট্রিমিং।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ