সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএমইটি (BMET) ছাড়পত্র নিয়ে তিনি দেশটিতে যান। গত সোমবার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত বুধবার সৌদি গণমাধ্যমে এই মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশিত হয় এবং সোমবার রাতে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিহত নারী ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএমইটি (BMET) ক্লিয়ারেন্স নিয়ে সৌদি আরবে যান এবং মে ২০২২-এ তার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল।
- টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এই নারী মক্কায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং দেশটিতে যাওয়ার ৬ মাস পর থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করে, যাদের মধ্যে একজন পুরুষ এবং এই নারী রয়েছেন; তারা উভয়েই বৈধভাবে বিদেশ গিয়েছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা এই নারী ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি নিবন্ধিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। গত সোমবার রাতে মন্ত্রণালয় তার পরিচয়পত্র ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত তথ্য সাংবাদিকদের সরবরাহ করে। একই ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারী মক্কা শরীফে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। দেশটিতে যাওয়ার মাত্র ছয় মাস পরেই তিনি কারাগারে বন্দি হন। তার বড় বোন জানান, একটি গাড়ি কেনা সংক্রান্ত অভিযোগে মালিকের করা মামলায় তাকেসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী সুনির্দিষ্ট অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু জানাননি ওই নারী। তিনি নিয়মিত কারাগার থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং সর্বশেষ গত মঙ্গলবারও কথা বলেছিলেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবারই ওই নারীর পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা বা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি। নিহত নারীর পরিবার গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই দুঃসংবাদ পায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঁচ বছর আগে বিয়ে হলেও দুই বছর পর তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এবং এরপরই তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন।
এই ঘটনাটি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং আইনি সহায়তার বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। বিএমইটি কার্ডধারী হিসেবে ওই নারী ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ ও ওয়েলফেয়ার সার্ভিসের আওতাভুক্ত ছিলেন। বর্তমানে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যারা বিদেশে যান, তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে এই ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ কতটুকু ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।