২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। উত্তরার একটি হাসপাতালে তাকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তার কথিত প্রেমিক জিয়াউদ্দিন রাফি। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। র্যাব রাফিকে গ্রেপ্তার করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা এখনো পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২ নভেম্বর বিকেলে উত্তরার বাসা থেকে হিমুকে অচেতন অবস্থায় উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই সঙ্গী জিয়াউদ্দিন রাফি পালিয়ে যান।
- র্যাবের অভিযানে রাজধানীর বংশাল থেকে মূল অভিযুক্ত রাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়; প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে হিমুর সাথে তার বিবাদের তথ্য উঠে আসে।
- ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হিমুর গলায় দাগ পাওয়া গেলেও এবং প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলা হলেও, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নিখোঁজ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে রহস্য এখনো কাটেনি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে এখনো শোকের ছায়া বিনোদন অঙ্গনে। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর বিকেলে উত্তরার নিজ ফ্ল্যাট থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে হিমুকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েই তার কথিত প্রেমিক জিয়াউদ্দিন রাফি ও মেকআপ আর্টিস্ট মিহির সেখান থেকে সটকে পড়লে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে। সিসিটিভি ফুটেজে রাফিকে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে দেখা যায়, যা জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক করে।
ঘটনার পরপরই র্যাব-১ এর একটি দল রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউদ্দিন রাফিকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হিমুর সাথে রাফির দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল এবং ঘটনার দিন তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। রাফি দাবি করেন, হিমু সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তবে হিমুর পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে, কারণ তার মোবাইল ফোন এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী ওই সময় থেকে নিখোঁজ ছিল।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে হিমুর গলায় লিগেচার মার্ক বা ফাঁসের দাগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা সাধারণত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, মৃত্যুর আগে হিমুর মানসিক অবস্থা এবং রাফির সাথে তার আর্থিক লেনদেন ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হিমুর ব্যবহৃত আইফোনটি রাফি নিয়ে পালিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে উদ্ধার করা হলেও অনেক তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
হিমুর মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা রহস্যের পূর্ণাঙ্গ জট এখনো খোলেনি। এই ঘটনাটি শোবিজ জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি পুনরায় সামনে এনেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে, যা এই রহস্যময় মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উন্মোচনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।