নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মণিরুল ইসলাম (২৬) নামে এক বাংলাদেশি পাচারকারী জখম হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় টুঙ্গি সীমান্ত দিয়ে ডিঙিনৌকায় করে ভারতে ৩ কেজি সোনা পাচারের সময় জওয়ানরা বাধা দিলে এই ঘটনা ঘটে। বাকি পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও জখম পাচারকারীকে উদ্ধার করে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কালীপুজোর আগে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শুক্রবার সন্ধ্যায় নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের টুঙ্গি সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৩ কেজি সোনা পাচারের সময় বিএসএফ জওয়ানরা অভিযান চালায়।
- ডিঙিনৌকায় করে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি পাচারকারী মণিরুল ইসলামের পায়ে গুলি ও পিঠে রাবার বুলেট লাগে।
- জখম পাচারকারীকে উদ্ধার করে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রাতের অন্ধকারে সোনা পাচারের সময় বিএসএফ জওয়ানদের গুলিতে মণিরুল ইসলাম (২৬) নামের এক বাংলাদেশি পাচারকারী গুরুতর জখম হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণগঞ্জের টুঙ্গি সীমান্ত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আসন্ন কালীপুজোর প্রাক্কালে বড় ধরনের এই পাচার চেষ্টা নস্যাৎ করার পাশাপাশি ৩ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। রাজ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা নাগাদ মণিরুল ইসলামসহ প্রায় সাতজন বাংলাদেশি পাচারকারী একটি ডিঙিনৌকায় চেপে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায়। অত্যন্ত গোপনীয়তায় বাংলাদেশ দিক থেকে ভারতে সোনা প্রবেশের এই চেষ্টা চালাচ্ছিল চক্রটি। সীমান্তে টহলরত বিএসএফ জওয়ানদের চোখে বিষয়টি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা অনুপ্রবেশকারীদের কঠোরভাবে বাধা দেয়। কিন্তু সতর্কতা উপেক্ষা করে পাচারকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধ্য হয়ে জওয়ানরা অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ প্রথমে ফাঁকা গুলি এবং পরবর্তীতে লক্ষ্য করে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এই গুলিবর্ষণে ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মণিরুল ইসলামের ডান পায়ে আসল বুলেট এবং পিঠে রাবার বুলেট লাগে। গুলিতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাকি পাচারকারীরা অন্ধকার ও নদীর সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে জওয়ানরা জখম পাচারকারীকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে ৩ কেজি সোনা উদ্ধার করে। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ওই পাচারকারীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জেরা করা হবে বলে বিএসএফ জানিয়েছে। আসন্ন শীতের মরশুম ও উৎসবের দিনগুলোতে সীমান্ত পারাপার এবং চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। গোয়ান্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত অঞ্চলের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহলদারি ও আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম মোতায়েনের কাজ চলছে, যাতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সম্পূর্ণরূপে দমন করা যায়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।