শীতকালে গোসল ও গৃহস্থালির কাজে পানি গরম করতে ব্যবহৃত ইমারশন রড বা ওয়াটার হিটারের বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা হিসাব। সাধারণত ১০০০ থেকে ১৫00 ওয়াটের একটি ইমারশন রড প্রতিদিন ৩০ মিনিট চালালে মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি পায়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে মাসিক বিদ্যুৎ বিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাধারণত বাজারে উপলব্ধ ইমারশন রডগুলোর ক্ষমতা ১০০০ থেকে ১৫০০ ওয়াটের হয়ে থাকে, যা উচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে গণ্য।
- প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট করে এক মাস বা ৩০ দিন ইমারশন রড ব্যবহার করলে প্রায় ১৫ থেকে ২২.৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ অতিরিক্ত খরচ হয়।
- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রড ব্যবহারের সময় থার্মোস্ট্যাট নিয়ন্ত্রণ বা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় ধরে প্লাগ লাগিয়ে না রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি গরম করার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে গেছে। এর মধ্যে তুলনামূলক কম খরচে ও দ্রুত পানি গরম করার মাধ্যম হিসেবে ইমারশন রডের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। সাধারণ পরিবারের বাজেট ও প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বাজারে ১০০০ ওয়াট থেকে শুরু করে ১৫০০ ওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রড পাওয়া যায়, যা সরাসরি বালতিতে ডুবিয়ে পানি গরম করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রযুক্তির ভাষায় ওয়াট ও ব্যবহারের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এসব হিটারের বিদ্যুৎ খরচ নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ১৫০০ ওয়াটের ইমারশন রড যদি প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট বা আধঘণ্টা চালানো হয়, তবে এটি দৈনিক প্রায় ০.৭৫ কিলোওয়াট-আওয়ার বা ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। এভাবে পুরো ৩০ দিন একটানা ব্যবহার করলে কেবল এই একটি সরঞ্জামের পেছনেই প্রায় ২২.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত খরচ হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রগতিশীল বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অসচেতনতা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ধরে ইমারশন রড চালু রাখার ফলে অনেক সময় বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে তা শুধু শক্তির অপচয়ই করে না, বরং হিটারটির কুণ্ডলী বা কয়েলের আয়ুও দ্রুত কমিয়ে দেয়। এছাড়া ভেজা হাতে সুইচ অন বা অফ করার সময় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শীতকালীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধ করতে স্মার্ট সকেট ব্যবহার কিংবা পানি গরম করার পর দ্রুত প্লাগ খুলে ফেলার অভ্যাস করা জরুরি। সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন মাস শেষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানো সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি গৃহস্থালির অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর চাপও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।