২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে নাম জড়ানো সাবেক বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ গত বুধবার, ২৮ অক্টোবর ঢাকার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করেছে নদী পুলিশ। উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট থেকে কালো শার্ট ও সাদা ট্রাউজার পরিহিত মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ঢাকার উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে ২৮ বছর বয়সি সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করে নদী পুলিশ।
- পকেটে থাকা আইফোন ও হাতঘড়ি দেখে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
- পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার পর থেকেই তিনি নানা হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার সামরিক বিমানে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই ভিডিওর সঙ্গে নাম জড়িয়ে আলোচনায় আসা সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার, ২৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাটের নিকটবর্তী তুরাগ নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নদী পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের গায়ে ছিল কালো শার্ট ও সাদা ট্রাউজার। পরে তাঁর পকেটে থাকা আইফোন ও হাতঘড়ি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার দিনভর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করার পর সন্ধ্যায় এক বন্ধুর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে মায়ের কাছে শেষ মেসেজে তিনি বাড়ি ফিরছেন বলে জানালেও আর ফেরেননি। পরদিন তুরাগ নদী থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম ও স্বজনদের দাবি, যে এলাকায় তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে সেখানে যাওয়ার কোনো ব্যক্তিগত কারণ তাঁর ছিল না। হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এবং এই বিতর্কের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে বিমান বাহিনী থেকে চাকরি হারানোর পর তাহসিফকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ খারিজ করে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে তাঁকে অবসর দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসে একটি ইউটিউব পডকাস্টে অংশ নিয়ে চাকরি হারানোর বিষয়ে পরোক্ষ ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র রহস্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটিত হবে। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাক্তন এই সামরিক কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু এবং এর পারিপার্শ্বিক ঘটনাগুলো দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।