বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দিশাকে দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের কারণেই তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। একই মামলায় অপর আসামি দীপের রিমান্ড শুনানিকালে সাংবাদিকদের আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আদালত আসামি দিশাকে দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিও ধারণের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
- মামলার অপর আসামি দীপের রিমান্ড শুনানির সময় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
- তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তটি তাহসিফ তার মোবাইলে ধারণ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সামনে আসছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় নিহত তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তরুণী দিশাকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে দাবি করেন, তাহসিফ ওই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ভিডিও না করলে শেখ হাসিনার পালানোর দৃশ্য অজানাই থেকে যেত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানান, তাহসিফ সাউরি আন্দোলনের সময় সক্রিয় ছিলেন এবং তার মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফুটেজ ছিল। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার কিছু দৃশ্য তিনি ধারণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভিডিওর কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে প্রথম দফায় রিমান্ড শেষে দিশাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ অধিকতর তদন্তের আবেদন জানায়।
এদিকে, একই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি দীপের রিমান্ড শুনানির সময় আদালত কক্ষে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুনানিকালে বিচারক উপস্থিত সাংবাদিকদের এজলাস কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। রুদ্ধদ্বার এই শুনানির বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি, যা নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন থাকতে পারে, যারা ভিডিওটি জনসমক্ষে আসা ঠেকাতে চেয়েছিল।
তাহসিফ হত্যা মামলার এই নতুন মোড় জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নিখোঁজ বা নিহতদের নিয়ে চলমান তদন্তে এই ভিডিওর বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাহসিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভিডিওটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন নিহতের পরিবার ও আন্দোলনকারীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।