আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। তবে পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে ভ্রমণকারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিবেশ ফি এবং রাতে অবস্থানের ওপর কড়াকড়ি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।
- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের জনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে পরিবেশ ফি প্রদান করতে হবে।
- দ্বীপের ভঙ্গুর পরিবেশ ও প্রবাল রক্ষা করতে পর্যটকদের রাতে অবস্থান করার ক্ষেত্রে নতুন এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালা আরোপ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ পর্যটকদের জন্য। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ও প্লাস্টিক দূষণের কারণে সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল প্রাচীর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ায় সরকার এবার কঠোর সুরক্ষা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পর্যটন মৌসুম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনগামী প্রতিটি পর্যটককে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিবেশ ফি প্রদান করতে হবে। এছাড়া দ্বীপে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বা একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহারে থাকবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্বীপের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়মগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়ে রাতে অবস্থান করার ক্ষেত্রেও যুক্ত করা হয়েছে নতুন শর্ত ও নিয়মাবলী। প্রতিদিন দ্বীপে কী পরিমাণ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন এবং কতজন রাতে থাকতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট দৈনিক কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটকদের হোটেল বুকিং এবং ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে, যাতে দ্বীপের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো সম্ভব হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী ও সুনিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ সেন্টমার্টিনের মৃতপ্রায় প্রবাল ও প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, যা দেশের ব্লু ইকোনমি এবং টেকসই পর্যটন খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।