সেন্টমার্টিন ভ্রমণে বিধিনিষেধে কোন ধরনের পরিবর্তন আসছে?
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে নতুন পর্যটন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় দ্বীপের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও যাতায়াত সংক্রান্ত পূর্বের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সুরক্ষা ও স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার জীবিকা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে নতুন পর্যটন নীতিমালা বা গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে।
- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, দূরপাল্লার যাত্রার বিষয়টি বিবেচনা করে আগের সরকারের দেওয়া নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হতে পারে।
- সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী জানান, দ্বীপটিতে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে অন্তত ৫ হাজার পর্যটকের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে কড়াকড়ি শিথিল করে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বীপের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে একটি যুগোপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসায় জড়িতদের স্বার্থও সুরক্ষিত করা হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছিল। যার মধ্যে নভেম্বর মাসে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দিনে মাত্র দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ রাখার নিয়ম করা হয়েছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আয় হারিয়ে বিপাকে পড়েন। এমনকি জীবিকার তাগিদে গাছ কাটা বা অবাধে মাছ শিকারের মতো পরিবেশবিরোধী তৎপরতাও কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান সরকারের পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আগের সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার থেকে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিনে গিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান করে ফিরে আসা একটি অবাস্তব ও কষ্টদায়ক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামানও এই ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে, রাত্রিযাপনের ওপর কড়াকড়ি বহাল থাকলে পর্যটকরা মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত হবেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আগের মতো অবাধে পর্যটক যাতায়াত এবং রাত্রিযাপনের সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওয়েবসাইট পাসের মাধ্যমে নির্ধারিত কোটায় পর্যটকরা যাতায়াত করছেন। নতুন নীতিমালায় পর্যটকের সংখ্যা, সময়সীমা এবং রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধ কি ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।