সার্বিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বড় ধরণের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের আধিপত্য হারিয়ে আলেকজান্ডার ভুসিচ পরাজয় স্বীকার করেছেন। ২৫ অক্টোবরের এই নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ‘স্টুডেন্ট লিস্ট—স্টুডেন্টস উইন’ ২৫০ আসনের মধ্যে ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ভুসিচের সমর্থিত জোট পেয়েছে প্রায় ১০৫টি আসন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সার্বিয়ার ২৫০ আসন বিশিষ্ট সংসদের ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ছাত্র-সমর্থিত তালিকা ‘স্টুডেন্টস উইন’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন অর্জন করতে চলেছে।
- দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (SNS) নেতা আলেকজান্ডার ভুসিচের দল প্রায় ১০৫টি আসন পেয়ে পরাজয় স্বীকার করেছে।
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেল স্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর সৃষ্ট দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকেই এই রাজনৈতিক রূপান্তরের সূচনা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন দীর্ঘমেয়াদী শাসক আলেকজান্ডার ভুসিচ। ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘স্টুডেন্ট লিস্ট—স্টুডেন্টস উইন’ নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। খোদ আলেকজান্ডার ভুসিচ প্রাথমিক হিসাবের ভিত্তিতে নিজের পরাজয় স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সার্বিয়ার সংসদে ছাত্র-সমর্থিত এই তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর নিজের সমর্থিত জোট পেতে পারে প্রায় ১০৫টি আসন। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও ভুসিচের এই পরাজয় সার্বিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
২০১২ সাল থেকে সার্বিয়ার ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে ছিল আলেকজান্ডার ভুসিচের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি বা এসএনএস (SNS)। চলতি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন ভুসিচ, যা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক বড় পরীক্ষা ছিল। এই পরিবর্তনের বীজ বপন হয়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে, যখন নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজপথে নামে সার্বিয়ার ছাত্রসমাজ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আন্দোলন বৃহত্তর রূপ নেয় এবং চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতো বিভিন্ন পেশার অরাজনৈতিক মুখদের নিয়ে গঠিত হয় ‘স্টুডেন্টস উইন’ নির্বাচনী প্ল্যাটফর্ম।
নির্বাচনে এই নতুন শক্তির জয় পেলেও তাদের সামনে এখন রয়েছে এক দীর্ঘ ও কঠিন পথ। দেশ পরিচালনার মূল দায়িত্বে এসে তাদের মোকাবিলা করতে হবে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো জটিল বিষয়গুলি। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া, রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং সংবেদনশীল কসোভো ইস্যু সামলানো নতুন সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা নেবে।
নির্বাচনের দিন ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে, যা সার্বিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেছে। তবে সাধারণ মানুষের রাজপথের জনসমর্থনকে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ছাত্রনেতাদের সাফল্যই নির্ধারণ করবে সার্বিয়ার আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে তরুণ প্রজন্মের এই উত্থান কেবল সার্বিয়া নয়, বরং বলকান অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।