লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

শেষ হচ্ছে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ, পানিবণ্টন নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 30 অক্টোবর 2026, 12:37 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 67 বার পঠিত
শেষ হচ্ছে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ, পানিবণ্টন নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে থাকলেও নতুন চুক্তি বা নবায়ন নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনও দৃশ্যমান কোনো জোরালো সাড়া মেলেনি। এমতাবস্থায় ফারাক্কা পয়েন্টে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী ঐতিহাসিক গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে চলেছে।
  • বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে এবং নতুন চুক্তি বা চুক্তির ধারা সংশোধনে ভারতকে কূটনৈতিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
  • চুক্তির মেয়াদ শেষের দোরগোড়ায় এসেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও সুনির্দিষ্ট কোনো সাড়া বা কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সমাপ্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি Deve Gowda-র সরকারের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তির এই দীর্ঘ মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, পরবর্তী করণীয় বা নতুন কোনো সমঝোতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা ফলপ্রসূ রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি।

১৯৯৬ সালের এই চুক্তির মূল ভিত্তি ছিল শুষ্ক মৌসুমে (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে) ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির সুনির্দিষ্ট হিস্যা নির্ধারণ করা, যা মূলত উভয় দেশের যৌথ নদী কমিশনের (JRC) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্ট্রেইট টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নতুন চুক্তিতে ফারাক্কায় পানির প্রবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি পানিবণ্টনের নিশ্চয়তার জন্য ভারতকে তাগিদ দিয়ে আসছে।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান ও সন্তোষজনক কোনো কূটনৈতিক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পানিবণ্টন নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গঙ্গা অববাহিকার জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবনের মিঠাপানির প্রবাহ বজায় রাখতে একটি স্থায়ী ও কার্যকর চুক্তির বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি স্বাক্ষর কেবল পানিবণ্টনের প্রশ্ন নয়, এটি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতির জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু না হলে শুষ্ক মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র পানিসংকট দেখা দিতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি করবে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ