হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে ভারতকে পরাজিত করেছে। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৮ উইকেটে ১৯১ রান তোলে, যেখানে ইশান কিশান ৬১ ও শ্রেয়ার আইয়ার ৫০ রান করেন। জবাবে টিম সেইফার্টের ৯৩ এবং গ্লেন ফিলিপসের অপরাজিত ৬৫ রানের সুবাদে কিউইরা ১২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিউজিল্যান্ডের পেসার অ্যাডাম মিলনে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচ করে ভারতের ৪টি উইকেট শিকার করেন।
- কিউই ওপেনার টিম সেইফার্ট মাত্র ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে ৫০ বলে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।
- গ্লেন ফিলিপস ৩৮ বলে ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৬৫ রান করে ১২ বল হাতে রেখেই দলের ৭ উইкеটের জয় নিশ্চিত করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
টানা তিন জয়ে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ভারত, তবে সফরকারী দল শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করতে পারেনি। ঘরের মাঠে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে। হ্যামিল্টনে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করে ভারত। শুরুতেই কিউই পেসারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা।
ইনিংসের শুরুতে ভারতের ইনিংস বড় হতে দেননি পেসার অ্যাডাম মিলনে। তিনি ওপেনার অভিষেক শর্মা (১) এবং সাঞ্জু স্যামসনকে (৪) দ্রুত ফেরানোর পর শেষ ওভারে নিতিশ কুমার রেড্ডি ও ভুবনেশ্বর কুমারকে আউট করেন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন মিলনে। তবে তৃতীয় উইকেটে ইশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়ার আইয়ারের ৯৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। কিশান ৩২ বলে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৬১ এবং আইয়ার ২৩ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ রান করেন। এছাড়া নামান ধীর ২৩ বলে ৩৩ রান যোগ করেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে মিলনে ছাড়া নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নিউজিল্যান্ড। দলের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ওপেনার টিম সেইফার্ট। আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছেও মাত্র ৭ রানের জন্য আক্ষেপ নিয়ে ফেরেন তিনি। নিতিশ কুমারের শিকার হওয়ার আগে সেইফার্ট ৫০ বল মোকাবিলা করে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপস মাত্র ৩৮ বলে ৬৫ রানের অপরাজিত বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। জয়ের মুহূর্তে ফিলিপসের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন বেভন জ্যাকবস (১*)।
সিরিজ আগেই হাতছাড়া হলেও শেষ ম্যাচে এমন নান্দনিক জয় নিউজিল্যান্ড দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাডাম মিলনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং সেইফার্ট-ফিলিপস জুটির ব্যাটিং দৃঢ়তা কিউইদের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নতুন শক্তির জানান দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতের বোলারদের ব্যর্থতা এবং শেষ ওভারের ব্যাটিং ধস টিম ম্যানেজমেন্টকে পরবর্তী সিরিজের আগে নতুন করে ছক কষতে বাধ্য করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।