৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধস নেমেছে। দেশটির ‘স্টার৫০’ সূচক চলতি অর্ধবার্ষিকীতে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছেন। মেটাএক্স ও মুর থ্রেডসের মতো চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানির শেয়ারের দাম অর্ধেকে নেমেছে। বাজার স্থিতিশীল করতে গত ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলগুলোকে শেয়ার কেনার নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চীনের নাসডাক খ্যাত ‘স্টার৫০’ সূচক চলতি অর্ধবার্ষিকীতে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং হার্ডওয়্যারভিত্তিক ‘চিনেক্সট’ সূচক ৩৬ শতাংশ দর হারিয়েছে।
- তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি ইউয়ান বা ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৫ অক্টোবর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে চীনের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলগুলোকে শেয়ার কেনার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবসায় জুড়ে চলমান বিশ্ব মন্দার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে চীনের শেয়ারবাজারে। দেশটির প্রযুক্তিভিত্তিক শেয়ারগুলোর ব্যাপক দরপতন ঘটেছে, যা এই খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক হিসেবে পরিচিত ‘স্টার৫০’ চলতি অর্ধবার্ষিকীতে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে, যা বর্তমান বিশ্বের বড় সূচকগুলোর মধ্যে অন্যতম খারাপ পারফরম্যান্স। একই সময়ে মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস সাংহাই এবং মুর থ্রেডস টেকনোলজির মতো শীর্ষস্থানীয় চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এ ছাড়া হার্ডওয়্যারভিত্তিক আরেক সূচক ‘চিনেক্সট’ ৩৬ শতাংশ দর হারিয়েছে।
অথচ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে স্টার৫০ সূচকটি প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় সরকারি নীতিমালার ইতিবাচক প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চীনের এআই বাজারে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতের চাহিদা ও প্রকৃত আয়ের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংশয় তৈরি হওয়ায় এখন চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৯ হাজার কোটি ইউয়ান বা ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার চীনা বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই দরপতনের প্রভাব পড়েছে নতুন বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর ওপরও। জুলাইয়ে শেয়ারবাজারে আসা মেমরি চিপ প্রস্তুতকারক সিএক্সএমটির শেয়ার ২৭ শতাংশ এবং আগস্টে রোবোটিকস কোম্পানি ইউশু টেকনোলজির শেয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
গ্যাভকাল ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার লিওনিড মিরোনভ মন্তব্য করেছেন যে, শেয়ারের এই পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে চীন সরকারের ঘোষিত উচ্চাভিলাষী এআই লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ চীনের এআই কোম্পানিগুলো মূলত ব্যাংক ঋণের চেয়ে শেয়ারবাজার থেকেই তাদের মূলধনের বড় অংশ সংগ্রহ করে থাকে। বাজার স্থিতিশীল করতে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার একটি জরুরি বৈঠক করেছে দেশটির আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। সেই বৈঠকে শেয়ার কেনার গতি বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলগুলোকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে গ্যাম ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পরও চীনের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর মূল্যায়ন বা দাম এখনো বেশ চড়া। ফলে দাম আরও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ না কমা পর্যন্ত বড় ধরনের লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা কম দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে তাই কঠোর আর্থিক নীতিমালার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bd-pratidin.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।