৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রায় ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। ১৯৫৩ সালে জন্ম নেওয়া শি-র শৈশব সুবিধাজনক হলেও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় তার বাবা রাজনৈতিক রোষানলে পড়লে তার জীবন নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ১৫ বছর বয়সে প্রত্যন্ত শানসি প্রদেশে নির্বাসিত হয়ে তিনি সাত বছর কঠিন পরিশ্রম ও গুহা-বাসে কাটান।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণকারী শি জিনপিংয়ের বাবা শি ঝংজুন ছিলেন কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরবর্তীকালে রাজনৈতিক সংকটে পড়ে বহিষ্কৃত হন।
- সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অংশ হিসেবে ১৫ বছর বয়সে শি জিনপিংকে শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামের পাহাড়ি গুহায় নির্বাসিত করা হয়, যেখানে তিনি সাত বছর কৃষিকাজ ও কঠোর পরিশ্রম করেন।
- গ্রাম জীবন ও ২২ বছর বয়সে চিংহুয়া বিদ্যালয় থেকে কেমিকৌশলে স্নাতক শেষ করার পর তিনি ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ২০১২ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা হন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন ৭৩ বছর বয়সী শি জিনপিং। এই দীর্ঘ মেয়াদে তিনি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিশ্বমঞ্চে চীনের অবস্থান ও ভূমিকায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন। তবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এই নেতার জীবন শুরু হয়েছিল বড় ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে। ১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্ম নেওয়া শি জিনপিং ছিলেন কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শি ঝংজুনের ষষ্ঠ সন্তান। শৈশবে বেইজিংয়ের নামকরা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তার পরিবার চরম বিপদের মুখে পড়ে।
তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শি-র বাবাকে 'দল-বিরোধী' চক্রের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করে গ্রামাঞ্চলে নির্বাসিত করা হয়। ফলশ্রুতিতে, কিশোর শি-কে ১৫ বছর বয়সে মাও জেদংয়ের নীতি অনুযায়ী জোর করে শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামের একটি পাহাড়ি গুহা-বাসস্থানে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি প্রায় সাত বছর ধরে কৃষিকাজ, সার বহন ও নালা খননের মতো অত্যন্ত কঠোর শারীরিক পরিশ্রমে জীবনযাপন করেন। এই কঠিন অভিজ্ঞতা তার মানসিক দৃঢ়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২২ বছর বয়সে তিনি গ্রাম ছেড়ে চীনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিংহুয়া বিদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। মাওয়ের মৃত্যুর পর তার বাবার রাজনৈতিক পুনর্বাসন তাকে কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীতে অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করে। পরবর্তীতে বেইজিং থেকে দূরে ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে সাংহাইয়ের শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে যোগ দেন এবং ২০১২ সালে হু জিনতাও-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে আসীন হন।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শি জিনপিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় চীনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি তিনি দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেন, হংকং ও শিনজিয়াংয়ে কঠোর শৃঙ্খলা ফেরান এবং সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির মেয়াদের সীমা তুলে দেন। তার এই জীবনসংগ্রাম ও রাজনৈতিক উত্থান তাকে আধুনিক চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দীর্ঘমেয়াদী নেতায় পরিণত করেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।