মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়কে দেশের জন্য ‘ইতিহাসের বিশাল পদক্ষেপে পিছিয়ে যাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি একদিনে তিন ট্রিলিয়ন ডলার শেয়ারবাজারের ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন এবং কট্টরপন্থী স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একে আমেরিকার ইতিহাসে ‘একটি বিশাল পদক্ষেপ পিছিয়ে যাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
- শেয়ারবাজারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন যে তার অধীনে বাজার ‘রকেটশিপে’ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিনেই তিন ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
- আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও শাণিত করতে ট্রাম্প কট্টরপন্থী স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিহাসের এক বিশাল পদক্ষেপ পিছিয়ে যাওয়া বলে অভিহিত করেছেন। গত রবিবার (৮ নভেম্বর) ট্রাম্প তার নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নির্বাচনের ফলাফলের পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার সুর কিছুটা নরম করলেও তিনি দ্রুতই নিজের আগের ও কট্টর অবস্থানে ফিরে গেছেন।
শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তার শাসনামলে মার্কিন শেয়ারবাজার ছিল ‘রকেটশিপে’র মতো গতিশীল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের নীতির কারণে শেয়ারবাজারে একদিনেই তিন ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই অর্থনৈতিক মন্দার জন্য তিনি বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে দায়ী করেছেন।
নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো উদ্যোগ রুখে দিতে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা দিলেও পরাজয়ের পর কিছুদিন তার বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গিয়েছিল। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ট্রাম্প এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি কট্টরপন্থী নেতা স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা আগামীর রাজনৈতিক ময়দানে তীব্র ও আপসহীন লড়াইয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং স্টিফেন মিলারের মতো কট্টরপন্থীকে শীর্ষ পদে বসানো মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ধাক্কা সামলে ট্রাম্প সমর্থকদের আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা আগামী দিনে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের ক্ষমতার লড়াইকে আরও জটিল করে তুলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।