দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে প্রায় ৩ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ কার্গো বা জাহাজ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বিপিসি ও কাতার এনার্জি এবং ভিটল এশিয়া থেকে এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়ের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে, যা দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া ও কাতার এনার্জি ট্রেডিং থেকে মোট ৬ কার্গো বা জাহাজ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হবে।
- এই ৬ কার্গো এলএনজি ক্রয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হচ্ছে।
- পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির ফলে দেশের সার কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ছয় কার্গো এলএনজি আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী কিংবা সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠকে এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমদানিসূত্র জানায়, চলতি বছর এবং আগামী মাসগুলোতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বিভিন্ন শিল্প ইউনিটে গ্যাসের তীব্র চাহিদা দেখা দিতে পারে। এই চাহিদা মেটানোর জন্যই মূলত স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও সিঙ্গাপুর থেকে এই এলএনজি চালানগুলো দেশে আনা হচ্ছে। এতে জ্বালানি খাতের আমদানির বৈচিত্র্যও বজায় থাকবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাতার এনার্জি এবং সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া নামক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এই এলএনজি কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে, যার মোট আর্থিক পরিমাণ ৩ হাজার ১৯৪ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আমদানির ফলে শীত ও গ্রীষ্মকালীন পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।
এই এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও শিল্পখাতের উৎপাদনমুখী কার্যক্রম গতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প ও ইস্পাত কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় রপ্তানি আওয়ারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, যা সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।