শারদীয় দুর্গোৎসবের দশমীতে লাল-সাদা শাড়ি ও সিঁথিতে সিঁদুর পরে দেবী বরণ করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য নুসরত জাহান। মুসলিম হয়েও প্রতিমা বরণের প্রথা পালন করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদল নেটিজেন তাকে আক্রমণ করেন। এর কড়া জবাব দিয়ে নুসরত জানান, তিনি সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা অব্যাহত রাখবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরিধান করে এবং সিঁথিতে সিঁদুর মেখে দেবীবরণে অংশ নেন অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ নুসরত জাহান।
- মুসলিম ধর্মাবলম্বী হয়ে হিন্দু সনাতন ধর্মের আচার পালনের কারণে সামাজিক মাধ্যমে কট্টরপন্থীদের তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
- সমালোচকদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে নুসরত জানান, ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সব ধর্মের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই তার মূল আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিনে সিঁথিতে সিঁদুর ও লাল-সাদা শাড়ি পরে দেবীবরণে অংশ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং রাজনীতিবিদ নুসরত জাহান। বিজয়া দশমীর দিন তার এই রূপ এবং বাঙালি বধূসুলভ সাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা আলোচনার ঝড় তোলে। প্রতিমা বরণের নানা মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করার পরই শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষের নানাবিধ প্রতিক্রিয়া।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও অনলাইন সূত্রে জানা যায়, মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নুসরত এর আগেও বিভিন্ন সময় সনাতন ধর্মের নানা উৎসবে অংশ নিয়ে কট্টরপন্থীদের সমালোচনার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে নিখিল জৈনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে যাওয়ার পরও তার পূজা উদযাপন ও সিঁদুর পরার বিষয়টি নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথাগত রক্ষণশীল সমাজের একটি অংশের আপত্তির মুখেও তিনি বরাবরই তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে নুসরত জাহান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সমালোচকদের উদ্দেশে জানান যে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তিনি বিশ্বাস করেন যে শিল্প এবং সংস্কৃতির কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম হয় না। ভারতের মতো বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের সংস্কৃতি ও উৎসবে অংশগ্রহণ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তার এই অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু মুক্তমনা ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ, যারা মনে করেন শিল্পীদের পরিচয় তাদের কাজ এবং মানবিকতা, কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সেলিব্রিটি ও জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে নুসরতের ব্যক্তিগত জীবন ও আচার-আচরণ সবসময়ই জনসমক্ষে তীক্ষ্ণ নজরদারিতে থাকে। ধর্মে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা প্রচারের এই ঘটনা ভারতীয় উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যকেই পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।