৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"মহাসপ্তমীতে আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা কলকাতা। দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী ক্লাবের 'রূপে রূপিণী' থিমে খড় ও প্রজেকশনের মাধ্যমে মহাভারতের নানা খণ্ডচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, ১১৭ বছর ধরে চলা কলকাতার প্রাচীনতম ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভার পূজায় ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানা বজায় রয়েছে। মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী ক্লাবের মণ্ডপে 'রূপে রূপিণী' থিমে খড়ের কারুকার্য এবং প্রভু জগন্নাথের দশ রূপসহ মহাভারতের বিভিন্ন খণ্ডচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- কলকাতার কালীঘাট এলাকার বলরাম বসু ঘাটে ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা ১১৭ বছর ধরে তাদের ঐতিহ্যবাহী ও সাবেকিয়ানা বজায় রেখে দুর্গোৎসব উদযাপন করে আসছে।
- ঐতিহ্যবাহী এই পূজায় পাঁচ দিনব্যাপী rituals পালনের জন্য পাঁচজন পুরোহিত নিয়োজিত থাকেন এবং পূজার সময় ঐতিহ্য অনুযায়ী সানাই বাজানোর বিশেষ রীতি বহাল রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো কলকাতা শহর। মহাষষ্ঠীর রাত থেকেই মণ্ডপগুলো লাল-নীল বাহারী আলোয় সেজে ওঠার পাশাপাশি কলকাতার প্রধান সড়কগুলোতেও দেখা মিলেছে নিয়ন আলোর বর্ণিল ঝলকানি। পূজার এই আনন্দ উপভোগ করতে দক্ষিণ কলকাতার প্রতিটি পাড়ায় এবং বিখ্যাত মণ্ডপগুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের অন্তহীন স্রোত বজায় রয়েছে।
এবারের পূজায় দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী ক্লাব একটি ব্যতিক্রমী থিম নিয়ে হাজির হয়েছে, যার শিরোনাম 'রূপে রূপিণী'। এই মণ্ডপের ভেতরে নিখুঁত কারুকার্য তৈরিতে খড়ের ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রভু জগন্নাথ দেবের দশ রূপ, রথযাত্রা এবং দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণসহ মহাভারতের একাধিক খণ্ডচিত্র অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভেতরের মায়াবী ও মৃদু আলোয় প্রজেকশনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা ব্যাকগ্রাউন্ড শিল্পরসিকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করলেও দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্লান্তি বা বিরক্তির লেশমাত্র নেই।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতাতেই রয়েছে কলকাতার সবচেয়ে প্রাচীন বারোয়ারি দুর্গাপূজা। ১৯১০ সালে কালীঘাট এলাকার বলরাম বসু ঘাটে এই পূজার প্রচলন করেছিল ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা, যা বর্তমানে ১১৭ বছর ধরে তাদের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। তৎকালীন সময়ে সকল মানুষকে এক সুতোয় বাঁধার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই পূজার মূল মাতৃপ্রতিমার অবয়বে বা রূপের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি আজও। পূজার পাঁচ দিন ধরে পাঁচজন অভিজ্ঞ পুরোহিত শাস্ত্রীয় রীতি মেনে পূজা-অর্চনা পরিচালনা করেন, এবং ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এখনও এখানে সানাই বাজানোর বিশেষ রীতি অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
বাঙালির এই সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব কেবল আনন্দের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আবহমানকাল ধরে বাঙালি আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে। মহাসপ্তমীর এই ব্যাপক জনস্রোত এবং থিমভিত্তিক মণ্ডপগুলোর নান্দনিক কারুকার্য কলকাতার সার্বজনীন দুর্গোৎসবের পরিধি ও জাঁকজমককে বিশ্বমঞ্চে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়েছে, যা অর্থনীতি ও পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার এখন টিভি-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।