বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের পাঁচটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দিতে বিদ্যমান নীতিমালায় বিশেষ ছাড় দিয়েছে। একক গ্রাহক ঋণসীমা অতিক্রম করলেও গ্রুপটিকে এই অর্থ প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত শিল্প উৎপাদন সচল রাখা ও সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা দেশের বৃহৎ শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিটি গ্রুপের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে একক গ্রাহক ঋণসীমা (Single Borrower Exposure Limit) অতিক্রম করার পরও ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো একক গ্রাহককে একটি ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ থাকলেও, বিশেষ বিবেচনায় এই সীমা শিথিল করা হয়েছে।
- এই ঋণ সুবিধা প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো সিটি গ্রুপের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রেখে বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালায় বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রুপটির পাঁচটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান একক গ্রাহক ঋণসীমা অতিক্রম করেও ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে পারবে। দেশের বৃহৎ শিল্প খাতের তারল্য সংকট নিরসন এবং উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো একক গ্রাহককে দিতে পারে না। তবে সিটি গ্রুপের ক্ষেত্রে এই আইনি বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। এর আগে গ্রুপটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ঋণের আবেদন করেছিল, কিন্তু ঋণসীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো তা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে এই বিশেষ ছাড়ের পথ প্রশস্ত হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় শিল্পগোষ্ঠীকে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ফলে ব্যাংকিং খাতে ঋণের কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি (Concentration Risk) বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বড় শিল্পকারখানা সচল রাখা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সিটি গ্রুপের বিশাল অবদান থাকায় তাদের আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সিটি গ্রুপের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও ঋণ বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখন কঠোর তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যেন শুধুমাত্র উৎপাদনশীল খাতেই ব্যয় হয় এবং নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।