লাইভ
তাৎক্ষণিক ৬০ শব্দের সংবাদ ও ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং
প্লে-স্টোর অ্যাপ

স্ক্রলের আড়ালে বাড়ছে মানসিক রোগ, নেই প্রকৃত তথ্য

প্রতিবেদক / উৎস: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা | তারিখ: 10 অক্টোবর 2026, 06:56 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 67 বার পঠিত
স্ক্রলের আড়ালে বাড়ছে মানসিক রোগ, নেই প্রকৃত তথ্য
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ

"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত স্ক্রলিংয়ের কারণে দেশে উদ্বেগজনক হারে মানসিক ব্যাধি বাড়লেও এ বিষয়ে নেই সাম্প্রতিক কোনো জাতীয় পরিসংখ্যান। ২০১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ১৮.৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২.৬ শতাংশ শিশু মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত, যাদের ৯১ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে ছিল। দৈনিক ৪ ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে তরুণদের বিষণ্নতা বাড়ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।"

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ২০১৯ সালের সর্বশেষ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮.৭ শতাংশ ও শিশুদের ১২.৬ শতাংশ মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ৯১ শতাংশ কোনো চিকিৎসাসেবা পাননি।
  • উইলির 'হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তরুণদের বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি ২ ঘণ্টার কম ব্যবহারকারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
  • মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত স্ক্রলিং অনিদ্রা ও মেজাজ খিটখিটে করার পাশাপাশি শিশুদের আচরণগত সমস্যা তৈরি করছে, অথচ বিষয়টি এখনও জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা স্ক্রলিং এখন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লেও মানসিক ব্যাধির প্রকৃত প্রভাব নিরূপণে কোনো হালনাগাদ তথ্য বা জাতীয় জরিপ নেই। ২০১৯ সালে পরিচালিত সর্বশেষ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক ব্যাধিতে ভুগছিল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৯১ শতাংশই কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবার আওতায় আসেননি। চিকিৎসাসেবার এই ঘাটতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী উইলির ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে স্ক্রলিংয়ের ভয়াবহ মানসিক প্রভাবের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ঢাকা ও কুমিল্লার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৪৪০ জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, যারা দৈনিক চার ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দিনে দুই ঘণ্টার কম ব্যবহারকারীদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার ফলে বাস্তব জীবনে ঘুম কমে যাওয়া, কাজের প্রতি অনীহা ও খিটখিটে মেজাজ তৈরির স্পষ্ট নজির মিলছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুনতাসির মারুফ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএমএ সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব এ সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, পারিবারিক মিথস্ক্রিয়া হ্রাস পাওয়া এবং শিশুদের হাতে অবাধে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার কারণে তারা অনলাইন স্বীকৃতির প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এছাড়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল তথ্য ও গুজবের আধিক্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নানাবিধ মানসিক জটিলতা সৃষ্টি করছে। স্ক্রিন টাইম সীমিত করা এবং শিশুদের মাঠের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জোর দেওয়ার তাগিদ দেন তাঁরা।

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও বাংলাদেশে বিষয়টি এখনও কেবল একাডেমিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে বড় কোনো গবেষণা বা জরিপ না হওয়ায় আক্রান্তদের সঠিক পরিসংখ্যান নীতিনির্ধারকদের অজানা থেকে যাচ্ছে। দ্রুত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই ডিজিটাল সংকটকে স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গুরুতর মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

স্বত্বাধিকার ও উৎস বিবরণী

এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সম্পূর্ণ খবর, লাইভ টিভি ও ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিন মাত্র ২ মিনিটে দেশের সব খবর জানুন ৬০ শব্দের স্মার্ট কার্ডে। বিজ্ঞাপনমুক্ত ক্লিন রিডার, ভয়েস ন্যারেটর এবং ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন লাইভ টিভি চ্যানেল স্ট্রিমিং।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ