৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশের অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৪-এর আওতায় সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিশেষ অনুরোধে এই সময় বাড়ানো হয়। ইতিপূর্বে চীন ও তুরস্কের একাধিক স্বনামধন্য জ্বালানি কোম্পানি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট এক্সনমবিলও এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের অফশোর বিডিংয়ের সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে করা হয়।
- বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে চীন ও তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে দরপত্র নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
- বিশ্বখ্যাত মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি এক্সনমবিল বাংলাদেশের অফশোর ব্লকগুলোতে বিনিয়োগ ও অনুসন্ধানের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের অফশোর এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র বা বিডিং রাউন্ড ২০২৪-এর সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে আরও একবার বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জোরালো অনুরোধ এবং প্রস্তুতি গ্রহণের সময় বাড়ানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ নতুন এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগ্রহী আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত দরপত্র দাখিল করতে পারবে। এর ফলে সাগরে কাঙ্ক্ষিত হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের মূল কাজ কিছুটা পেছালেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বাংলাদেশের গুরুত্ব নতুনভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।
এর আগে গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অফশোর ব্লকে গভীর ও অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে সরকার নতুন উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি বা পিএসসি ২০২৪ অনুমোদন করে। সংশোধিত এই চুক্তিতে জ্বালানি উত্তোলনের মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে লাভজনক শর্ত যুক্ত করায় বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে, চীনের জাতীয় পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং তুরস্কের টিপিআরও-এর মতো বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রাথমিক নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছে।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এক্সনমবিলের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের গভীর সমুদ্রে জরিপ চালানোর আগ্রহ দেশের ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, চলতি বিডিং রাউন্ডে অফশোরের মোট ২৪টি ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি গভীর সমুদ্রের এবং ৯টি অগভীর সমুদ্রের ব্লক। কোম্পানিগুলোর সাথে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমায় বৃহৎ শক্তির কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ৩১ মার্চের মধ্যে প্রস্তাবিত দরপত্রগুলো মূল্যায়নের পর পেট্রোবাংলা পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই অনুসন্ধানের সফলতা দেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার The Business Standard-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।