যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানান, দোহা কোনো সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তি পেশ করেনি, বরং কিছু অগ্রহণযোগ্য ধারণা উপস্থাপন করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে তেহরান তাদের অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, কাতার কোনো সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তি পেশ করেনি, বরং কিছু অগ্রহণযোগ্য ধারণা উপস্থাপন করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো নমনীয়তা না দেখানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে এবং বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
- সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানের অংশগ্রহণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের পর ইরানের কট্টরপন্থীরা আঞ্চলিক আলোচনা এবং ইয়েমেন সংকট নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র সংঘাত নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগ হোঁচট খেয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, কাতারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তি পেশ করা হয়নি। এর পরিবর্তে দোহার পক্ষ থেকে কেবল কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে গত রবিবার কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে একটি খসড়া শান্তি চুক্তি পেশ করার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ওই প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাত দিনব্যাপী একটি প্রক্রিয়ার কথা ছিল, যেখানে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে প্রতিদিন পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরান কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না। উল্টো তেহরান তাদের প্রধান দাবি হিসেবে ইরানের বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে, এই সংকটের মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তির ঘোষণা আসেনি। এই বৈঠকটি ইরানি কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি করেছে। সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান হেশমাতুল্লাহ ফালাহাতপেশেহ মন্তব্য করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের চেয়ে সফররত দেশগুলোর কাছে ইয়েমেন ইস্যুটি অনেক বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তেহরান একটি চুক্তি করতে চাইলেও ইরানি নেতারা সম্ভবত আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প নির্বাচনের পর ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইসরায়েলের সামনে ‘ইরানি হুমকি’ চিরতরে নির্মূল করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।