জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই পাস হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আইন'। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন পাস হলে বাড়ির ছাদে সোলার ইউনিট স্থাপনকারী গ্রাহকরা বিশেষ কর ছাড়সহ 'গ্রিন হাউস' স্বীকৃতি লাভ করবেন, যা দেশে গ্রিন এনার্জি খাতকে আরও গতিশীল করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আইন পাস করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
- বাড়ির ছাদে সোলার ইউনিট স্থাপনকারী গৃহমালিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ কর ছাড় এবং 'গ্রিন হাউস' স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
- বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই পাস হতে যাচ্ছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত নতুন আইন। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে এগোতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিগত কয়েক বছর ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি কাঠামোর অভাবে এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। নতুন এই আইনটি পাস হলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আইনসম্মত হবে।
জ্বালানি সংকট ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবে সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যেসব ভবন মালিক বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ছাদে সোলার ইউনিট স্থাপন করবেন, তারা বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের 'গ্রিন হাউস' হিসেবে ঘোষণা করা হবে, যা নগরবাসীর মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে ব্যাপক উৎসাহ জোগাবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বহুতল ভবনগুলোর ছাদে পর্যাপ্ত খালি জায়গা রয়েছে, যেগুলোকে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে মিনি পাওয়ার প্লান্টে রূপান্তর করা সম্ভব। এর ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়ানো সহজ হবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সময়ে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়, তখন ছাদভিত্তিক সোলার সিস্টেমগুলো বড় ধরনের ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করতে পারবে।
এই আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সাহায্য করবে না, বরং সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বাবলম্বী করে তুলবে। সরকারের এই নীতিগত সহায়তার ফলে আগামীতে বাণিজ্যিক ও আবাসিক উভয় খাতেই সোলার প্যানেল আমদান ও ব্যবহারের হিড়িক পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।