৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির ৫১৭ বছরের দুর্গাপুজোয় শোলার উপরে তপ্ত কাঞ্চনবর্ণের দেবী দুর্গা পূজিত হন। মহালয়ার পবিত্র তিথিতে মায়ের চক্ষুদান সম্পন্ন হয়। এই পুজোয় দেবী প্রতিমার সঙ্গে বাঘ বাহন এবং প্রাচীন রীতি মেনে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, যা বাংলার শাক্ত সংস্কৃতির এক অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো দীর্ঘ ৫১৭ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
- এই পুজোয় দেবী দুর্গার প্রতিমা সম্পূর্ণ শোলার উপরে তপ্ত কাঞ্চনবর্ণে অঙ্কন করা হয় এবং বাহন হিসেবে বাঘ রাখা হয়।
- মহালয়ার শুভ তিথিতে প্রতিমার চক্ষুদান সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই রাজবাড়ির পূজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে রয়েছে শত শত বছরের পুরনো দুর্গাপুজোগুলি। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ৫১৭ বছরের পুরনো বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। এই পুজোয় দেবী দুর্গার রূপ ও আরাধনার ধরনে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য। প্রচলিত সাধারণ প্রতিমার পরিবর্তে এখানে শোলার উপরে তপ্ত কাঞ্চনবর্ণের দেবী দুর্গা ফুটিয়ে তোলা হয়, যা দেখতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এবং প্রাচীন শিল্পরীতির এক অনন্য নিদর্শন।
ঐতিহ্যবাহী এই রাজবাড়ির পুজোয় দেবী প্রতিমার সঙ্গে বাহন হিসেবে বাঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। মহালয়ার পবিত্র তিথিতে মায়ের চক্ষুদান সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমেই এই পুজোয় আনুষ্ঠানিকতার সূচনা ঘটে। সুদীর্ঘ ৫১৭ বছর ধরে বংশপরম্পরায় রাজপরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই প্রাচীন রীতি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে পালন করা হয়ে আসছে।
পুজো কমিটির তত্ত্বাবধায়করা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও রাজবাড়ির এই প্রাচীন পুজোর মূল আচার, নিয়ম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। শোলার কারুশিল্প এবং প্রাচীন রাজকীয় রীতির সংমিশ্রণে তৈরি এই প্রতিমা দেখতে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে ভিড় জমান। স্থানীয় শিল্পীদের নিপুণ হাতে শোলার ওপর ফুটিয়ে তোলা এই রূপ বাংলা তথা ভারতের লোকশিল্পের এক অমূল্য সম্পদ।
বাংলার শাক্ত ঐতিহ্য এবং রাজবংশীয় সংস্কৃতির এই ধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাংলার প্রাচীন ইতিহাস, শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল, যা বর্তমান সময়েও সমানভাবে গুরুত্ব বহন করে চলেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Ei Samay-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।