দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১২ হাজার ৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা ও স্থানীয় চাহিদার কারণে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
- গত চার কার্যদিবসে দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতি ভরিতে মোট ১২ হাজার ৮০ টাকা যোগ হয়েছে, যা দেশের স্বর্ণের বাজারের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
- আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্লেষকরা ৪ হাজার ৫০০ ডলারের পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১২ হাজার ৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ফলে বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের অস্থিরতা এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুত করার প্রবণতাকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বর্তমানে ২ হাজার ৭৫০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় আগামী দিনে এর দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজুসের তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বাড়ার পাশাপাশি রুপার দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং আমদানিতে জটিলতার কারণে স্বর্ণের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অলংকার তৈরির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা জুয়েলারি শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল অলংকার শিল্পের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।