৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও সরকারিভাবে কিছুই না জানার দাবি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি এই তথ্য জানায়। এর প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে ডেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
- সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানিয়েছেন, রিয়াদ ও জেদ্দা মিশনে প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা ও লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকার পরও বড় ধরনের এ ঘটনা না জানার দাবি করে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
- ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয় এবং রোববার ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগে থেকে কিছু না জানার দাবি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত বুধবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করেছিল বলে ওই খবরে জানানো হয়। এই ঘটনার পর রোববার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।
সৌদি আরবের বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও সুশৃঙ্খল হওয়ায় সেখানে যেকোনো বড় আইনি প্রক্রিয়ার খবর দূতাবাসের অগোচরে থাকার কথা নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বিবিসি বাংলাকে জানান, রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনে লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকেন যাদের প্রধান কাজ হলো আদালত ও জেলখানাগুলো নিয়মিত মনিটর করা। ফলে এই ধরনের একটি বড় ঘটনা দূতাবাস জানে না—এমন কথা বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তবে অপর সাবেক কূটনীতিক মাহফুজুর রহমান ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেছেন, কোনো প্রবাসী নাগরিক অপরাধে জড়ালে অনেক সময় নিজ দেশের দূতাবাসের কনস্যুলেট সুবিধা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, যার ফলে স্বাগতিক দেশ অনেক সময় কূটনৈতিক চ্যানেলকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানায় না।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবারই জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত ও দণ্ডপ্রাপ্তদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী গর্হিত অপরাধে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বার্তা বা নথি পায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরবে এই ধরনের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় একটি শিক্ষা।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে যে, অভিযুক্ত ওই দুই বাংলাদেশির বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরেই চলছিল এবং আদালতের কার্যক্রমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাই দোভাষীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি এই বিচার প্রক্রিয়া স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলেও বাংলাদেশ মিশনের কূটনৈতিক বা শ্রম উইংয়ের অজানা থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই কেবল এই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র এবং দূতাবাসের নজরদারির ঘাটতি ছিল কি না, তা পরিষ্কার হবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।